জনস্বাস্থ্যবিরোধী বাজেট সংশোধনের দাবি
তামাকের দাম না বাড়ালে বাড়বে মৃত্যু, কমবে রাজস্ব
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকপণ্যের দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখায় জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তামাকবিরোধী নেতৃবৃন্দ ও অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, এ বাজেট পাস হলে তামাকের ব্যবহার ও তামাকজনিত মৃত্যু বাড়বে, বিপরীতে রাজস্ব আয় কমবে।
বুধবার (১২ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) এ আশঙ্কা তুলে ধরে বাজেটে সংশোধনের জোর দাবি জানান।
তারা বলেন, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের করহার আলাদা রেখে তাদের দাম কাছাকাছি রাখায় ক্রেতারা সহজেই সস্তা বিকল্পে ঝুঁকছেন। প্রস্তাবিত বাজেটে এ দুটি স্তর একীভূত না করায় এ প্রবণতা আরও বাড়বে। এতে তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হবে এবং ধূমপানে নিরুৎসাহিত করার কার্যকর পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
বক্তারা জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী মাথাপিছু আয় গত এক বছরে বেড়েছে ১১.৫ শতাংশ, কিন্তু সিগারেটের দাম অপরিবর্তিত থাকায় তা আগের তুলনায় আরও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী চাল, ডাল, তেল, কাগজ, মাছ, ডিম—সব পণ্যের দাম বেড়েছে, কিন্তু তামাকপণ্যের দাম না বাড়ায় সেগুলো এখন নিত্যপণ্যের তুলনায় আরও সস্তা। এতে ধূমপানে প্রবণতা বাড়বে, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও তরুণদের মধ্যে।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির রিসার্চ ফেলো সৈয়দ ইউসুফ সাদাত বলেন, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে দাম ৯০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এতে কর কাঠামো সহজ হবে এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।
সংগঠনটি বাজেট সংশোধনী কিছু প্রস্তাব করেছে—
- নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে ১০ শলাকা ৯০ টাকা
- উচ্চ স্তর: ১৪০ টাকা (অপরিবর্তিত)
- প্রিমিয়াম স্তর: ১৯০ টাকা
- ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ি: ২৫ টাকা, ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা: ২০ টাকা
- জর্দা (১০ গ্রাম): ৫৫ টাকা, গুল (১০ গ্রাম): ৩০ টাকা
- সব তামাকপণ্যে ১৫% ভ্যাট, ১% স্বাস্থ্য সারচার্জ এবং যথাক্রমে ৪৫% ও ৬০% সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখা
তামাক নিয়ন্ত্রণে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আসবে এবং প্রায় ১৭ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বক্তারা।
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, আত্মার কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী ও নাদিরা কিরণসহ তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রামস হাসান শাহরিয়ার বাজেট বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
সবার দেশ/কেএম




























