Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৫৯, ১১ নভেম্বর ২০২৫

নিরাপত্তা জোরদার, সর্বোচ্চ সতর্কতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

রাজধানীজুড়ে ককটেল-অগ্নিসংযোগ, উচ্চ সতর্কতা জারি

রাজধানীজুড়ে ককটেল-অগ্নিসংযোগ, উচ্চ সতর্কতা জারি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় সোমবার (১০ নভেম্বর) রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত একযোগে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শহরজুড়ে চরম আতঙ্ক ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো দিনে অন্তত ১১টি স্থানে বিস্ফোরণ এবং তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। যদিও কোনও বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র‍্যাব যৌথ অভিযান শুরু করেছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট বা অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনও প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর সব থানাকে আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত টহল ও নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে—সে দিনই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার কথা রয়েছে।

একযোগে বিস্ফোরণ, লক্ষ্যবস্তু প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র

প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে ভোররাতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে। মিরপুর মডেল থানার ওসি সাজ্জাদ রোমান জানান, মোটরসাইকেলযোগে আসা দুজন ব্যক্তি ভবনের সামনে ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর মোহাম্মদপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানে একই কায়দায় ককটেল হামলা হয়। ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টার ও ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনেও চারটি বিস্ফোরণ ঘটে।

সন্ধ্যার পর বিস্ফোরণের পরিধি আরও বাড়ে—মৌচাক, আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বেতার ভবন, খিলগাঁও ফ্লাইওভার ও মিরপুর শাহ আলী মার্কেট এলাকায় পরপর বিস্ফোরণ ঘটে। রাত ১০টার দিকে ফ্লাইওভার থেকে আরেকটি ককটেল ছোঁড়া হয়। দিনের শেষ বিস্ফোরণটি ঘটে রাত ১১টা ১০ মিনিটে বাংলামোটরে এনসিপি কার্যালয়ের সামনে। এতে এক পথচারী সামান্য আহত হন।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন জানান, বিস্ফোরণের পর স্থানীয়রা মোটরসাইকেলে পালাতে থাকা দুই ব্যক্তিকে ধরে ফেলে। পরে আরও তিনজনকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত ককটেলও উদ্ধার করা হয়েছে।

আগের দিনই হামলার ইঙ্গিত

পুলিশি সূত্র জানায়, তার আগের দিন কাকরাইলের সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রালে ও মোহাম্মদপুরের সেন্ট জোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের বাসার সামনে ককটেল হামলা হয়েছিলো। একই রাতে শাহজাদপুর ও মেরুলবাড্ডায় দুটি বাসে আগুন দেয়া হয় এবং সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে আরেকটি বাসে অগ্নিসংযোগ ঘটে।

ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় জনসমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

সন্দেহভাজনদের ধরতে অভিযান

পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জানিয়েছে, বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পাল্টা গোয়েন্দা তৎপরতা চলছে। ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি কিছু আওয়ামী কর্মী প্রকাশ্যে বলেছেন যে তারা ‘নেতাদের জন্য যেকোনও কিছু করতে প্রস্তুত’। এ ধরনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে পৃথক অভিযানে অন্তত ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ককটেল হামলায় জড়িত সন্দেহে এক ছাত্রলীগ সদস্যকেও আটক করেছে ডিএমপি।

ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিরাপত্তা জোরদার

সরকার জানিয়েছে, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঢাকার সব গির্জা, মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন,

দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিটি অপচেষ্টা দ্রুত ও কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। জননিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

‘ঢাকা লকডাউন’ ঘিরে উদ্বেগ

ঘটনাগুলোর সময়সূচি এমন এক পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে যখন বহুল আলোচিত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আওয়ামী রীগ ১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে—যদিও দেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম এখনও স্থগিত রয়েছে। এ ঘোষণার পর রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত জরুরি নিরাপত্তা সভায় সব থানাকে অতিরিক্ত টহল, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, রাস্তার আলোকসজ্জা বৃদ্ধি এবং জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা জোরদারের নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি রেলওয়ে, মেট্রো রেল ও বিমানবন্দর এলাকাতেও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

সেনাবাহিনী, র‍্যাব, ডিএমপি ও বিশেষ শাখার যৌথ টহল এখন রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় চলছে। পুলিশের বিশেষ বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট (বিডিইউ) রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন মনে হলেও একই সূত্রে গাঁথা—রাজধানীকে আতঙ্কে রাখার এক সমন্বিত প্রচেষ্টা হতে পারে। তবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত।

রাজধানীবাসী আতঙ্কিত হলেও সরকার বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী পুরোপুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং শহরের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন