Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:৫৫, ২৫ আগস্ট ২০২৫

নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সোমবার (২৫ গষ্ট) বিকেলে দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে মামলা (নং-৩১) দায়ের করেন। মামলাটি রেকর্ড করেন সংস্থার সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এর সহকারী পরিচালক মো. সাইদুল ইসলাম।

মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নূরুল ইসলাম জ্ঞাত আয়ের বাইরে ১৮ কোটি ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি অসাধু উপায়ে এ সম্পদ অর্জন করে নিজের দখলে রেখেছেন, যা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নূরুল ইসলামের নামে ঢাকার গুলশান আবাসিক এলাকায় সার্কেল-২ এর বাড়ি নং-১৯ (অর্ধেকাংশ), রোড-৪৪, ব্লক-সি, গুলশান-২ এবং পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সাতটি প্লট রয়েছে। এসব স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৯৯ টাকা। এছাড়া ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি’র শেয়ার মূল্য ৮ কোটি ৩০ লাখ ৫১ হাজার ৪৫০ টাকা এবং নোমান গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মূল্য ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৪ হাজার ৫০০ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৩৮ কোটি ৮১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯ টাকা। স্থাবর-অস্থাবর মিলে মোট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৬২ কোটি ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৬৮ টাকা।

২০২৪-২৫ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে তার দায়দেনা দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। দায়দেনা বাদ দিয়ে নীট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬২ কোটি ১৮ লাখ ৫৪ হাজার ৪৬৮ টাকা। ২০১৬-১৭ করবর্ষে নূরুল ইসলামের প্রদর্শিত নীট সম্পদ ছিলো ৪৫ কোটি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৮৩ টাকা। ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত তার মোট গ্রহণযোগ্য আয় ধরা হয়েছে ৬৭ কোটি ৬৯ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৪ টাকা। একই সময়ে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হয়েছে ২৪ কোটি ৪৯ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৬ টাকা।

তদন্তে দেখা যায়, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে সঞ্চয় বা অবৈধ উৎসের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৩ কোটি ২০ লাখ ৭৯ হাজার ৪৬৮ টাকা। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ১৮ কোটি ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, যা নূরুল ইসলাম অবৈধভাবে অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। মামলা এজাহারে ঘটনাকাল হিসেবে ১৯৯৮-৯৯ থেকে ২০২৪-২৫ করবর্ষ পর্যন্ত সময় উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদক আইনের ২৭(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এদিকে নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানকালে ছাত্র-জনতা হত্যায় অর্থ যোগানের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হাসিনা আমলে সরকারি প্রভাব ব্যবহার করে বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি দখল, নামমাত্র মূল্যের জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুদকে আরও ১৩টি অনুসন্ধান চলছে। এসব অনুসন্ধানে তার স্ত্রী, সন্তান, নাতি-নাতনি এবং প্রতিষ্ঠানটির বেতনভুক্ত কর্মচারিদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

হাসিনাকে পুশইন করুন, দেখি কত সাহস: সীমান্ত ইস্যুতে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা
‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে নথিহীনদের সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে ভারত
নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা কি দ্বারপ্রান্তে? রোববার চুক্তির ইঙ্গিত
মদ-সিগারেটের দাম বাড়ানোও বিরোধী দলের পছন্দ নয়: প্রধানমন্ত্রী
নেইমার ছাড়াই শক্তিশালী ব্রাজিল, মরক্কোর বিপক্ষে সম্ভাব্য একাদশ
প্রয়াত কারিনাকে বিশেষ সম্মাননা দেবে চরকি
ডিবি পরিচয়ে ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর
কুয়েতে সরকারি স্ট্যাম্প জালিয়াতি, পাঁচ বাংলাদেশি গ্রেফতার
কক্সবাজারে পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বিএসএফের গুলিতে ফের বাংলাদেশি যুবক নিহত