ভুল স্টেশনে নেমে ধর্ষণের শিকার কিশোরী, অভিযুক্ত গ্রেফতার
সিলেট থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে নিজ বাড়িতে ফিরছিলো এক কিশোরী। মায়ের সঙ্গে ট্রেনে ভ্রমণকালে ভিড়ের মধ্যে ভুল করে কুলাউড়া জংশন স্টেশনে নেমে পড়ে সে। এরপরই এক গাড়িচালকের প্রলোভনে পড়ে ধর্ষণের শিকার হয় এ কিশোরী। ঘটনায় অভিযুক্ত আক্তার আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ৩০ জুন কিশোরী তার মায়ের সঙ্গে সিলেটের একটি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছিলো। সিলেট থেকে ভানুগাছ স্টেশন পর্যন্ত স্ট্যান্ডিং টিকিট কাটলেও ট্রেনের ভিড়ে মাকে হারিয়ে ফেলে সে। ভুল করে কুলাউড়া স্টেশনে নামার পর পরবর্তী ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলো। তখনই আক্তার আলী নামে এক প্রাইভেট কারচালক তার সঙ্গে পরিচয় করেন এবং বাড়ি পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
কিশোরীর অভিযোগ, আক্তার তাকে সিলেটের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে নিজেকে সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখান এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। এমনকি কিশোরীর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তার স্বজনদের কাছে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। ইমোর মাধ্যমে আক্তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ জুলাই কুলাউড়া রেলওয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতে সিলেটের কদমতলী এলাকা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার ও আক্তার আলীকে গ্রেফতার করে। আক্তারের বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কায়স্থ গ্রামে। তিনি পেশায় প্রাইভেট কারচালক এবং কুলাউড়া থেকে সিলেটে যাত্রী পরিবহন করতেন।
কুলাউড়া রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক দিপক দেওয়ান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আক্তার অপরাধ স্বীকার করেছেন। তাকে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিশোরীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার ও সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।
কিশোরীর পরিবার হতদরিদ্র। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।
সবার দেশ/কেএম




























