অশ্রুসিক্ত বিদায়ে চিরনিদ্রায় জবি ছাত্রনেতা জুবায়েদ
চোখের পানিতে ভিজে উঠেছিলো হোমনার কলাগাছিয়া এম এ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ। মাগরিবের নামাজের পর সে মাঠেই অনুষ্ঠিত হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসেনের দ্বিতীয় জানাজা।
তার বিদায়ে হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকাজুড়ে—প্রিয় শিক্ষক, সহপাঠী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, আত্মীয়স্বজন ও হাজারো মানুষ ভিড় করেন শেষ বিদায়ের মিছিলে।
এর আগে সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জানাজা। পরে রাত আটটার দিকে নিজ জন্মস্থান কুমিল্লার হোমনা উপজেলার আসাদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
প্রিয় ছাত্রকে হারানোর বেদনায় জুবায়েদের জানাজা ও দাফনে একে একে স্মৃতিচারণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা ও এলাকাবাসী। বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক আশরাফুল আলম, নিহতের চাচা ও হোমনা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, সাবেক সচিব ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক জহরসহ স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল ও জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
আরও পড়ুন <<>> ‘প্রেমের মরা’ই জলে ডুবিয়েছে জুবায়েদকে, ছাত্রীর চাঞ্চল্যকর তথ্য
জানাজায় অংশ নেন উপজেলা বিএনপি, ছাত্রদল, প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা অসংখ্য মানুষ। মাঠে তখন নেমে আসে এক শোকভারাক্রান্ত নীরবতা।
স্মরণযোগ্য প্রেক্ষাপট:
জুবায়েদ হোসেন ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। গত রোববার বিকেলে আরামানিটোলার পানির পাম্প গলির নূর বক্স লেনের রওশন ভিলায় টিউশনি করতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন তিনি। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয় পরিবারের কাছে।
তার অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে, শোকাহত সহপাঠী ও শিক্ষকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করছেন স্মৃতিচারণ ও ক্ষোভের বার্তা।
সবার দেশ/কেএম




























