নাশকতার অভিযোগে তোলপাড়
বরগুনায় ও সাতক্ষীরায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন
বরগুনা ও সাতক্ষীরায় একই রাতে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই জেলায় প্রায় একই কায়দায় দুর্বৃত্তরা পেট্রল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিও, তাতে দেখা গেছে—একদল যুবক পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) রাত ১১টার পর বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠের পূর্ব দিকে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ভিডিও ধারণকারীর নির্দেশে এক যুবক কাঠি জ্বালিয়ে স্মৃতিস্তম্ভে নিক্ষেপ করেন। সঙ্গে সঙ্গেই জ্বলে ওঠে আগুন। এরপর আরেক যুবক পেট্রল বোমা ছুড়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি নিজেই পোস্ট করেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি রেজাউল কবির রেজা। পোস্টে তিনি লেখেন, বরগুনা সার্কিট হাউসের সামনে কথিত জুলাই স্তম্ভে আগুন। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জুলাই স্মারক বরগুনার মাটিতে থাকতে পারে না, থাকতে দেব না।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে এখনও এমন কোনও আলামত পাইনি। ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা যাচাই করছি। পুলিশ যেকোনও নাশকতা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে সাতক্ষীরার শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের পাশেও একই ধরনের অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, এক যুবক স্তম্ভের চারপাশে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়রা সকালে সেখানে আগুনের চিহ্ন ও জ্বালানি তেলের গন্ধ পান। সৌভাগ্যক্রমে স্মৃতিস্তম্ভটি অক্ষত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের চোখের সামনে এমন নাশকতা ঘটছে, অথচ কেউ শনাক্ত হচ্ছে না—এটা প্রশাসনের ব্যর্থতা।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ জানায়, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ভিডিওর উৎস যাচাই করা হচ্ছে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দুই জেলায় পরপর এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসন বলছে, স্মৃতিস্তম্ভ রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























