সেন্টমার্টিনগামী জাহাজে আগুন, ঘুমন্ত কর্মীর মৃত্যু
কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে সেন্ট মার্টিনগামী ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’ জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত নুর কামাল (৩৫) ওই জাহাজের নিয়মিত কর্মচারী ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি জাহাজের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ঘাটে নোঙর করা অবস্থায় হঠাৎ করেই জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। সে সময় জাহাজটি সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে যাত্রী পরিবহনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো।
খবর পেয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট, কোস্টগার্ড সদস্য এবং প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও সম্পূর্ণ নির্বাপণের কাজ চলছিলো।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর জাহাজের একটি কক্ষ থেকে এক কর্মচারীর সম্পূর্ণ দগ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ওই কক্ষেই অবস্থান করছিলেন। আর কেউ নিখোঁজ আছেন কি না তা নিশ্চিত হতে জাহাজের ভেতরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি।
সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, আজ ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’ জাহাজে করে ১৯৪ জন পর্যটকের সেন্ট মার্টিন যাওয়ার কথা ছিলো। তবে সৌভাগ্যক্রমে আগুন লাগার সময় কোনও যাত্রী জাহাজে উঠেননি। সবাই ঘাটে অপেক্ষমাণ ছিলেন। পরে ধারণক্ষমতা অনুযায়ী কিছু যাত্রীকে বিকল্প জাহাজে পাঠানো হয়েছে। বাকি যাত্রীরা আগামীকাল যাত্রা করবেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রী নিজামী উদ্দিন বলেন, জাহাজে ওঠার আগেই আগুন লেগে যাওয়ায় আমরা রক্ষা পেয়েছি। নিজের চোখে জাহাজে আগুন জ্বলতে দেখা খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করেছেন।
এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম জানান, এটি যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। পরিবেশ ও যাত্রী নিরাপত্তা বিবেচনায় ১২টি নির্দেশনা মেনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক পরিবহনের জন্য ছয়টি জাহাজকে অনুমতি দেয়া হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























