আজ রায়, ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
পলাতক খুনি হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই
চব্বিশের জুলাই–আগস্টের গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ভারতে পালিয়ে যাওয়া খুনি হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আজ রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ বেলা ১১টার দিকে রায় দিতে বসবেন।
রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে সোমবার সকালে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসাইন তামিম গুরুত্বপূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা দেন—পলাতক আসামিরা দণ্ডিত হলে আপিলের সুযোগ পাবেন না। অর্থাৎ শেখ হাসিনা ও কামাল যদি সাজাপ্রাপ্ত হন, তারা আপিল বিভাগে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হবেন।
পলাতক আসামির ক্ষেত্রে আইন যা বলে
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার জানান, গ্রেফতার থাকা আসামিরা রায় ঘোষণার পর ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। একই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষও আপিল বিভাগে যেতে পারবে। কিন্তু পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রে আইন ভিন্ন—
হাসিনা ও আসাদুজ্জামান যেহেতু পলাতক, তাদের সাজা হলে আপিল করার সুযোগ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন,
সিআরপিসিতে জামিনের ক্ষেত্রে নারী, শিশু বা অসুস্থ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার থাকলেও রায় প্রদানের ক্ষেত্রে নারী হওয়ায় আলাদা সুবিধা পাওয়ার কোনো বিধান নেই।
‘অপরাধের গুরুতরতার ওপর ভিত্তি করেই শাস্তি নির্ধারণ হবে—আসামি নারী, পুরুষ বা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী যেই হোন,’ বলেন তিনি।
মামলায় একমাত্র গ্রেফতার আসামি—এবং রাজসাক্ষী
মামলার তিন আসামির মধ্যে একমাত্র গ্রেফতার সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ইতোমধ্যে দোষ স্বীকার করে ‘রাজসাক্ষী’ বা ‘অ্যাপ্রুভার’ হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান—
গত বছরের ১৮ জুলাই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মাধ্যমে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) কাছ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘লেথাল উইপন’ বা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ পেয়েছিলেন।
তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ গণহত্যার চিত্র
- তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে—
- ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শেখ হাসিনার নির্দেশে নিরাপত্তা বাহিনী মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরস্ত্র ও নিরীহ ছাত্র–জনতার ওপর ভয়াবহ হামলা চালায়।
- তাতে দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন এবং আহত হন প্রায় ৩০ হাজার।
- প্রতিবেদনটিতে এসব হত্যাকাণ্ডকে ‘সাংগঠনিক মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রায়ের প্রহর—চূড়ান্ত উত্তেজনা
আজকের রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বিচারব্যবস্থার একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল এলাকায় ইতোমধ্যে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে, মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য।
সারা দেশই এখন তাকিয়ে—শেখ হাসিনা ও অন্য দুই আসামির ভাগ্যে কী লেখা রয়েছে সেই রায়ের দিকে।
সবার দেশ/কেএম




























