জুলাই গণহত্যা
হাসিনার মামলায় রায় সোমবার, সরাসরি দেখবে গোটা বিশ্ব
জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ভারতে পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের রায় ঘোষণা হবে সোমবার (১৭ নভেম্বর)। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এ রায় বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, যাতে দেশবাসী ও বিশ্বের মানুষ তা দেখতে পারে।
ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বড় পর্দায় বিচারকাজ দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে রাজধানীবাসী সহজেই রায় দেখতে পারেন।
ট্রাইব্যুনাল ও বিচারিক প্যানেল
রায়ের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল। অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহামদসহ অনেকে। আসামিপক্ষের যুক্তি ও প্রসিকিউশনের জবাব শেষ হয় ২৩ অক্টোবর।
মামলার ঘটনা ও সাক্ষ্যগ্রহণ
মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে—উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে তথ্যসূত্র, জব্দতালিকা, দালিলিক প্রমাণ ও শহীদদের তালিকা অন্তর্ভুক্ত। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় চলতি বছরের ৩ আগস্ট। মোট ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।
সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এ মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছেন। প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছেন, তবে মামুনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
সরাসরি সম্প্রচার ও বৈশ্বিক নজর
মামলার রায় শুধুমাত্র দেশের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাইব্যুনালের এ রায় আগামীর জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ মোকাবেলায় একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং দেশের মানুষ সরাসরি রায় দেখার সুযোগ পাবে।
সবার দেশ/কেএম




























