ঢাবি শিক্ষার্থী হত্যা
‘ট্রেজার গান’ দেখার কৌতূহলেই প্রাণ গেলো সাম্যের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্যকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে একটি মাদক চক্র। হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিলো ‘ট্রেজার গান’ নামের একটি বৈদ্যুতিক শক যন্ত্র দেখার কৌতূহল।
মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
ডিএমপি কমিশনার জানান, ঘটনার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খাবার খেতে গিয়েছিলেন সাম্য ও তার দুই সহপাঠী। সেখানে এক মাদক কারবারি মো. রাব্বির (ওরফে কবুতর রাব্বি) হাতে থাকা ট্রেজার গান দেখতে চান সাম্য। রাব্বি তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানালে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাব্বি ও তার সহযোগীরা সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১২টার দিকে সাম্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তে উঠে এসেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সক্রিয় মাদক কারবারিদের তিনটি চক্রের একটি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। মূলহোতা মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে ওই চক্রটি কাজ করতো। ঘটনার দিন মেহেদী একটি ব্যাগে করে সুইস গিয়ার সরঞ্জাম নিয়ে এসে সহযোগীদের মধ্যে সরবরাহ করেন।
ডিবির অভিযানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো—মো. রাব্বি, মেহেদী হাসান, নাহিদ হাসান পাপেল, মো. রিপন, মো. সোহাগ, মো. রবিন, হৃদয় ইসলাম ও সুজন সরকার। কক্সবাজার, মুন্সীগঞ্জ ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় তিনটি মাদক চক্র আছে—একটি তিন নেতার মাজার এলাকায়, একটি উদ্যানের মাঝখানে এবং আরেকটি ছবির হাট ঘিরে। মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে থাকা চক্রটির সদস্যরাই সাম্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত।
নিহত সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায়।
ঘটনার পরদিন সাম্যের বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ডিবি বলছে, ঘটনাটি তাৎক্ষণিক বলে মনে হলেও এর পেছনে অন্য কোনও কারণ আছে কিনা, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
সবার দেশ/কেএম




























