শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস
ঢাবির হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে—এমন ঘোষণা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই নেয়া সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে এবং প্রতিটি হল প্রশাসন নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। একইসঙ্গে তিনি ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত হল কমিটি নিয়ে সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন।
তবে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে হলপলিটিক্সের পূর্ণাঙ্গ অবসান দাবি করেন। তারা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন-
- কেন কমিটি ঘোষণা দেওয়া হলো, তার জবাব উপাচার্যকে দিতে হবে।
- ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদল, শিবির, বাগছাস, বামসহ সব গুপ্ত কমিটি বিলুপ্ত করতে হবে।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের হল একাডেমিক এলাকায় রাজনীতির সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দিতে হবে।
- ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব হল কমিটি বাতিল করতে হবে।
- প্রভোস্টদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে হবে।
- দ্রুত ডাকসু নির্বাচন বাস্তবায়ন করতে হবে।
শুক্রবার দুপুরে ঢাবি শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন হল ইউনিটে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, সেখানে প্রকাশ্য কমিটি ঘোষণা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।
প্রথমে রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। সন্ধ্যার পর আন্দোলন তীব্র হয়, রাত ১২টার পর টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যান। রাত ২টার দিকে উপাচার্য তাদের সামনে এসে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার ঘোষণা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ২০২৪ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকাশ্য, গোপন বা সুপ্ত— কোনও ধরনের হলপলিটিক্স সহ্য করা হবে না।
সবার দেশ/কেএম




























