ভিপি নির্বাচিত জসিম এবং জিএস গাফফার
চাকসুতে ভিপি-জিএসসহ ২৪ পদে শিবির জয়ী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে দীর্ঘ ৪৪ বছর পর নেতৃত্বে ফিরেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ এবার ভিপি ও জিএসসহ মোট ২৪টি পদে জয়ী হয়ে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে।
১৯৮১ সালের পর এ প্রথম চাকসুতে নেতৃত্বে ফিরলো শিবির। সেবার ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন জসিম উদ্দিন সরকার এবং জিএস হন আবদুল গাফফার। তবে ১৯৯০ সালের নির্বাচনে ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য’র কাছে পরাজয়ের পর ধীরে ধীরে সংগঠনটি প্রভাব হারায়। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। প্রায় এক দশক নিষ্ক্রিয় থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংগঠনটি আবারও প্রকাশ্যে রাজনীতিতে ফেরে।
এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ২০২৫ সালের চাকসু নির্বাচনে তাদের এমন বিজয় ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এ পর্যন্ত মাত্র সাতবার চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে—১৯৭০, ১৯৭২, ১৯৭৪, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৯০ এবং ২০২৫ সালে।
১৯৯০ সালের পর টানা ৩৫ বছর বন্ধ থাকার পর এবার নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টায় সপ্তম চাকসু নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন। তিনি বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রার্থী ও ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিলো উৎসবমুখর।
সহসভাপতি (ভিপি) পদে বিজয়ী হয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ইতিহাস বিভাগের এমফিল শিক্ষার্থী ও চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শিবিরের সভাপতি মো. ইব্রাহিম হোসেন। তিনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত সাজ্জাদ হোসেন পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৪ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন একই প্যানেলের সাঈদ বিন হাবিব, যিনি ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাহিত্য সম্পাদক। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের মো. শাফায়াত পেয়েছেন ২ হাজার ৭৩৪ ভোট।
মোট ২৬টি পদের মধ্যে ২৪টিতেই বিজয় পেয়েছে শিবির-সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’। ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল কেবল সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয়লাভ করেছে। এ পদে ছাত্রদলের আইয়ুবুর রহমান পেয়েছেন ৭ হাজার ১৪ ভোট, শিবির সমর্থিত সাজ্জাদ হোছন পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৫ ভোট।
এ ছাড়া সহ খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী তামান্না মাহবুব জয়ী হয়েছেন।
দীর্ঘ নীরবতা ও নিষেধাজ্ঞার পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের এ জোরালো প্রত্যাবর্তন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের ভোটে উঠে আসা এ ফলাফলকে অনেকে ক্যাম্পাস রাজনীতির ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের সূচনা বলেও মনে করছেন।
সবার দেশ/কেএম




























