জ্বালানি কার্ড নিতে গিয়ে লাইনে মৃত্যু, চুয়াডাঙ্গায় ভিড়ে বিশৃঙ্খলা
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি কার্ড (ফুয়েল কার্ড) বিতরণ কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে এক এনজিও কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত বখতিয়ার রহমান উপজেলার ভেদামারী গ্রামের রফিউদ্দিন মোল্লার ছেলে। তিনি একটি এনজিওতে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, সকালে জ্বালানি কার্ড সংগ্রহের জন্য আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদে লাইনে দাঁড়ান বখতিয়ার। প্রচণ্ড ভিড় ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার মধ্যে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে দ্রুত একটি স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের দাবি, অতিরিক্ত ভিড় ও শারীরিক চাপের কারণে স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে ভোর থেকেই জেলার চারটি উপজেলা পরিষদে জ্বালানি কার্ড নিতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, ফলে অনেক জায়গায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৩০ ও ৩১ মার্চ এ কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলবে। কার্ড পেতে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হচ্ছে।
প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুধুমাত্র জ্বালানি কার্ডধারী যানবাহনেই তেল সরবরাহ করা হবে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ২২টি পাম্পে জ্বালানি বিক্রি চলবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তেল দেয়া হবে।
তবে কৃষকদের জন্য এ নিয়মে শিথিলতা রাখা হয়েছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেল আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক উজ জামান বলেন, ফুয়েল কার্ড চালুর মাধ্যমে তেলপাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে একজনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে প্রশাসন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
সবার দেশ/কেএম




























