হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেয়ার ‘প্রতিশোধ’
এনসিপি সমর্থকদের ওপর হামলা-ধর্ষণের অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, ভাঙচুর ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার পেছনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেছে এনসিপি।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে এখনও বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১১টার দিকে। চানন্দি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় তিন সন্তানের এক জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এনসিপির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধ নিতে একদল দুর্বৃত্ত ওই নারীর বাড়িতে হামলা চালায়। প্রথমে তার স্বামীকে বেধড়ক মারধর করে আলাদা কক্ষে বেঁধে রাখা হয়। এরপর ওই নারীকে গোসলখানায় নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এ সময় কেন তিনি ‘শাপলা কলি’তে ভোট দিয়েছেন—এমন প্রশ্নও করা হয় বলে জানিয়েছে দলটি।
পরদিন সকালে একই চক্রের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আবারও ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায়। ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ঘটনা প্রকাশ করলে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই নারীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এনসিপি দাবি করেছে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত তিন দিনে হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তাদের অন্তত ৫০০ নেতাকর্মীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এনসিপির আরও ১৩ জন আহত কর্মী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে দলটির দাবি।
দলটির অভিযোগ, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ভীতি ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যাতে বিরোধী মতের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে নিরুৎসাহিত হয়।
এনসিপি বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় ঘোষণার পরও এ ধরনের সহিংসতা গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত। বিএনপি যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তবে তাদের উচিত অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়া এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
এনসিপি চার দফা দাবি জানিয়েছে—
- সকল ঘটনার অবিলম্বে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিচারিক তদন্ত।
- ধর্ষণ, হামলা ও সন্ত্রাসে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
- ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
- সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা জোরদার ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদারকি নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এনসিপি।
ভোটাধিকার প্রয়োগের জেরে কোনো নাগরিকের ওপর হামলা বা যৌন সহিংসতার ঘটনা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়—এ কথা উল্লেখ করে দলটি গণমাধ্যম, প্রশাসন ও সচেতন নাগরিক সমাজের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
সবার দেশ/কেএম




























