ময়মনসিংহে আনন্দ-উচ্ছ্বাস
একই ইউনিয়নে দুই এমপি!
একই ইউনিয়নের বাসিন্দা, কিন্তু দুটি ভিন্ন সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন দুই সংসদ সদস্য। সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ বিরল ঘটনার জন্ম হয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায়। বিষয়টি নিয়ে পুরো ইউনিয়নজুড়ে বইছে আনন্দ ও আলোচনার ঝড়।
নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য হলেন আবু ওয়াহাব আকন্দ এবং ইয়াসের খান চৌধুরী। তারা দুজনই বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আলাদা দুটি আসন—ময়মনসিংহ-৪ ও ময়মনসিংহ-৯—থেকে বিজয়ী হয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত আবু ওয়াহাব আকন্দ নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কপালহর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুল মোতালেব আকন্দের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ জেলা শহর ময়মনসিংহে বসবাস করলেও নিজ এলাকায় তার সক্রিয় যোগাযোগ রয়েছে। তিনি ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাধিক হামলা-মামলা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ও আলোচিত নেতা হিসেবে পরিচিত ওয়াহাব আকন্দ এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেন।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসন থেকে নির্বাচিত ইয়াসের খান চৌধুরী একই উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়রুল হোসেন খান চৌধুরীর ছেলে। পেশাগতভাবে তিনি একজন তথ্য-প্রযুক্তি বিজ্ঞানী এবং দীর্ঘদিন লন্ডনে বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের আইটি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদেশে অবস্থান করলেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এবার প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তিনি।
একই ইউনিয়নের দুই ব্যক্তি দুটি পৃথক আসনের প্রতিনিধিত্ব করবেন—এ ঘটনায় নান্দাইলসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা, যা তাদের জন্য গর্বের বিষয়।
ওয়াহাব আকন্দের বড় ভাই আব্দুল আউয়াল আকন্দ জানান, জেলা শহরে বসবাস করলেও তার ছোট ভাই সবসময় নিজ এলাকা নান্দাইলের মানুষের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। এখন সংসদ সদস্য হওয়ায় এলাকার উন্নয়নে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, একই ইউনিয়নের দুই সংসদ সদস্য থাকার ফলে নান্দাইলের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে। অবকাঠামো, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তারা।
সবার দেশ/কেএম




























