মমতার দুর্গে মোদির ঝড়? হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত বিভিন্ন বুথফেরত সমীক্ষা ও প্রাক-নির্বাচনী জরিপে কখনও এগিয়ে দেখা যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি-কে, আবার কিছু জরিপে স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। বিভিন্ন জরিপ সংস্থার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অধিকাংশ সমীক্ষায় বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে।
ম্যাট্রিজ় নামের একটি জরিপ সংস্থা তাদের সমীক্ষায় বিজেপিকে ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। একই জরিপে তৃণমূল কংগ্রেসকে ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন দেয়া হয়েছে। অন্য দলগুলো পেতে পারে ৬ থেকে ১০টি আসন।
অন্যদিকে চাণক্য স্ট্র্যাটেজির জরিপেও বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বিজেপি ১৫০ থেকে ১৬০টি আসন পেতে পারে, যেখানে তৃণমূলের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ১৩০ থেকে ১৪০।
তবে সব জরিপ একমুখী নয়। পিপল্স পাল্সের সমীক্ষায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। তাদের হিসাবে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসন পেয়ে আবারও সরকার গঠন করতে পারে। সেখানে বিজেপির আসন সংখ্যা ৯৫ থেকে ১১০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।
পি-মার্ক ও প্রজা পোলের মতো কয়েকটি সংস্থা আবার বিজেপির শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। এসব জরিপে দলটিকে ১৫০ থেকে ২০০-এর বেশি আসন পর্যন্ত পেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের তৃণমূল আধিপত্যে এবার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
তবে পোল ডায়েরি ও জেভিসি নামের কয়েকটি সংস্থার জরিপে দুই দলের মধ্যে খুব কাছাকাছি ব্যবধানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসব সমীক্ষা বলছে, শেষ পর্যন্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের ফলই সরকার গঠনের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।

এদিকে জনমত পোলসের জরিপে তৃণমূলকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, তৃণমূল ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন পেয়ে আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারে। সেখানে বিজেপি পেতে পারে ৮০ থেকে ৯০টি আসন।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন শুধু একটি রাজ্যের ক্ষমতার লড়াই নয়; বরং এটি জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গকে দীর্ঘদিন ধরেই নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির জন্য একটি কৌশলগত রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটি অক্ষুণ্ন রাখতে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
বুধবার অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ। সাত জেলার ১৪২টি আসনে এদিন ভোট হয়। এর আগে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিলো।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৯০ শতাংশের বেশি, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ। উচ্চ ভোটার উপস্থিতিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
তবে ভারতের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, বুথফেরত সমীক্ষা সব সময় চূড়ান্ত ফলের সঙ্গে মিলে না। অতীতেও একাধিকবার দেখা গেছে, পূর্বাভাস ও প্রকৃত ফলাফলের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
আগামী ৪ মে ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে। সেদিনই স্পষ্ট হবে, পশ্চিমবঙ্গে কি আবারও মমতার হাসি বজায় থাকে, নাকি মোদির বিজেপি ভেঙে দেয় তৃণমূলের দীর্ঘদিনের দুর্গ।
সবার দেশ/কেএম




























