না ফেরার দেশে অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ
বাংলা সিনেমার সোনালি যুগের জনপ্রিয় ও বহুমাত্রিক অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে বুধবার (২১ জানুয়ারি) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮২ বছর।
অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন জাভেদ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তিনি চিরবিদায় নেন। তার আত্মার শান্তির জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।
চলচ্চিত্রাঙ্গনে ইলিয়াস জাভেদের যাত্রা শুরু হয় নৃত্য পরিচালক হিসেবে। তার আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখলেও খুব দ্রুতই তিনি অভিনয়ের প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং নায়ক হিসেবে নিজের জায়গা শক্ত করে নেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’-এর মাধ্যমে নায়ক হিসেবে তার অভিষেক ঘটে।
তবে ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ চলচ্চিত্রের পর থেকেই দর্শকমহলে তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা। এরপর একের পর এক সফল সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে সময়ের অন্যতম দর্শকপ্রিয় নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
ইলিয়াস জাভেদ তার দীর্ঘ অভিনয়জীবনে শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। নায়ক হিসেবে পাশাপাশি তিনি চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও বিভিন্ন সময় প্রশংসিত হয়েছেন। তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ‘নিশান’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যে ছবিটির জন্য তিনি আলাদা পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৪৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন ইলিয়াস জাভেদ। পরবর্তীতে তিনি স্বপরিবারে পেশাওয়ার থেকে পাঞ্জাবে চলে যান এবং সেখান থেকেই তার শিল্পীজীবনের সূচনা। ব্যক্তিজীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন।
বাংলা চলচ্চিত্রের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকা ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে। সহকর্মী শিল্পী, নির্মাতা ও অগণিত দর্শক তাকে স্মরণ করছেন একজন প্রতিভাবান অভিনেতা, দক্ষ নৃত্য পরিচালক এবং বিনয়ী মানুষ হিসেবে।
সবার দেশ/কেএম




























