কেনিয়ায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত অন্তত ১৮
পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ এ দুর্যোগে বহু মানুষ আহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
রোববার (৩ মে) কেনিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, থারাকা নিথি, এলজিও-মারাকওয়েট এবং কিয়াম্বু কাউন্টিতে একাধিক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি ঢল ও কাদার স্রোতে ঘরবাড়ি চাপা পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেনিয়ার পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রবল বর্ষণ ও ভূমিধসে বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। অনেক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, রাজধানী নাইরোবির বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানির মধ্য দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
টানা বৃষ্টিতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্যবসায়ীরা সড়ক সংস্কার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।
এর আগে কেনিয়ার আবহাওয়া অধিদফতর অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ব্যাপারে সতর্কবার্তা দিয়েছিলো। সংস্থাটি জানিয়েছিলো, অতিরিক্ত পানি জমে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য, দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি কেনিয়ার দ্বিতীয় বড় বন্যা-দুর্যোগ। গত মার্চে রাজধানী নাইরোবি ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছিলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পূর্ব আফ্রিকাজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। কখনও দীর্ঘ খরা, আবার কখনও অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত—এ পরিবর্তন কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করছে।
সূত্র: আল–জাজিরা
সবার দেশ/কেএম




























