ইসরায়েলি নাগরিকরা ব্যাংকারে আত্মগোপন করেছে
ইরানের মিসাইল হামলায় লন্ডভন্ড ইসরায়েল, নিহত ২ শতাধিক
ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার (১৫ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টার পরপরই ইরান ও ইসরায়েল—উভয় দেশের পক্ষ থেকেই এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নতুন করে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে। একযোগে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইসরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এ হামলার কয়েক মিনিট পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাগরিকদের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে নির্দেশ দেয়। উত্তর ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বেজে উঠলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মধ্য ইসরায়েল এবং জেরুজালেমেও সাইরেন শোনা গেছে।

টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আশঙ্কায় একাধিকবার সতর্কতা জারি করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম দাবি করেছে, শনিবার রাত ও রোববার ভোরে চালানো ড্রোন ও মিসাইল হামলায় ২০০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিহত বা আহত হয়েছে। তেল আবিবের দক্ষিণের শহর বাত ইয়াম এবং রেহোভত ছিল হামলার মূল লক্ষ্য।
তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনগুলোতে হতাহতদের সংখ্যা নিয়ে পারস্পরিক বিরোধ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একাধিক সংবাদমাধ্যম বলছে, অন্তত ৯ জন নিহত এবং ২০৭ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, আহতের সংখ্যা ২৪০ ছাড়িয়েছে এবং অনেকে এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন।

ইসরায়েলি রেডিওর বরাতে জানা গেছে, বাত ইয়াম শহরে ডজন খানেক ঘরবাড়ি ও ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
হামলার পর তেল আবিব ও আশপাশের শহরগুলোতে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে এবং আরও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে বলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী এবং ক্ষয়ক্ষতিসম্পন্ন হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























