Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:১৪, ৫ জুলাই ২০২৫

ইসরায়েলের প্রযুক্তির বড়াই যেভাবে ধূলিসাৎ করে দিলো ইরান

ইসরায়েলের প্রযুক্তির বড়াই যেভাবে ধূলিসাৎ করে দিলো ইরান
ছবি: সংগৃহীত

১৩ জুন কোনও উসকানি ছাড়াই ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় দেরি করেনি তেহরান। মুহূর্তেই ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি নামে তেল আবিবের দিকে। এরই ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের দক্ষিণে অবস্থিত সামরিক-সংশ্লিষ্ট বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভাইসমান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স কার্যত ধ্বংস হয়ে যায়।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান ভুল করে নয়, সুপরিকল্পিতভাবেই এ হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্য ছিলো- পদার্থবিদ্যা, বায়োটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামরিক গবেষণার এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রটিকে গুড়িয়ে দেয়া।

ভাইসমান ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট আলোন চেন জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইনস্টিটিউটের গবেষণাগার, অত্যাধুনিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ ল্যাব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলের সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত এ প্রতিষ্ঠানকে শুধু বেসামরিক গবেষণার কেন্দ্র ভাবার সুযোগ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি, বিকল্প জিপিএস প্রযুক্তি— এসব সবকিছুর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রয়েছে ইনস্টিটিউটের।

ইরানের হামলায় নবনির্মিত রাসায়নিক ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণাগার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংস হয়েছে জীবন ও গণনামূলক বিজ্ঞানচর্চার ভবন, যেখানে ক্যান্সার গবেষণা ও পুনর্জন্মবিষয়ক ওষুধ উদ্ভাবনের কাজ চলছিলো।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এলদাদ জাহরের। ২২ বছরের গবেষণার ফসল—হৃৎপিণ্ডের টিস্যু, ডিএনএ, আরএনএ, অ্যান্টিবডি ও ল্যাবে তৈরি ভাইরাসের নমুনাসহ সবই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ইনস্টিটিউটের প্রায় ৪৫টি ল্যাব ধ্বংস হয়েছে, যেখানে ৪০০–৫০০ গবেষক কাজ করতেন। প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস ভবনও পার্শ্ববর্তী রসায়ন ভবনের শকওয়েভে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরায়েলি ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ভাইসমান ইনস্টিটিউট কখনও নিছক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ছিলো না। ১৯৪৮ সালের নাকবা থেকে শুরু করে ১৯৫০-এর দশকের গোপন পারমাণবিক প্রকল্প, এমনকি আজকের সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে ইনস্টিটিউটটির ভূমিকা অনস্বীকার্য।

এ প্রতিষ্ঠান থেকেই গড়ে উঠেছে ইসরায়েলের সামরিক নেতৃত্বের বৈজ্ঞানিক মেরুদণ্ড। এখানকার স্নাতকরা দেশের সাইবার যুদ্ধে ব্যবহৃত ‘ইউনিট ৮২০০’ এবং সামরিক প্রতিভা তৈরি প্রকল্প ‘তালপিয়ট প্রোগ্রাম’-এর অংশ হন।

ফলে ইরানের এ হামলা নিছক প্রতিশোধ ছিলো না, বরং ইসরায়েলের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতার প্রাণকেন্দ্রেই ছিল এ হামলার মূল আঘাত।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতির কথা প্রকাশ পেলেও ইসরায়েলি সরকার এখন প্রতিষ্ঠানটির সামরিক সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে এটিকে সাধারণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রচেষ্টা আসলে ইসরায়েলের ‘প্রযুক্তির বড়াই’ ঢাকা দেয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।

ইরানের এ পরিকল্পিত হামলা স্পষ্ট করে দিয়েছে, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও সামরিক গবেষণায় ইসরায়েলের শ্রেষ্ঠত্বের দাবির ভিত কতটা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আর তেহরানও বুঝিয়ে দিয়েছে, তাদের পাল্টা আঘাত শুধু শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, প্রয়োজন হলে তা ইসরায়েলের সবচেয়ে গভীর কৌশলগত জায়গায়ও পৌঁছাতে পারে।

সূত্র: প্রেস টিভি

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন