জাতিসংঘে তেহরানের চিঠি
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে আগ্রাসী রাষ্ট্র ঘোষণার দাবি ইরানের
ইরানের ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে আগ্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে তেহরান। শনিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিকভাবে এ দাবি জানানো হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলেন, ১৩ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ইরানের আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, ত্রাণকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এসব হামলায় আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং মানবাধিকারের মৌলিক নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে।
আরাঘচি জানান, শুধু বেসামরিক অবকাঠামো নয়, ইরানের কুম, আরাক, ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতেও হামলা হয়েছে। এসব হামলা আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা (আইএইএ) এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির (এনপিটির) গুরুতর লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানান, হামলায় বেশ কিছু পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ইরান দ্রুত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে সক্ষম হবে। তবে তেহরান দাবি করছে, হামলায় পারমাণবিক কার্যক্রমে বড় ধরণের ক্ষতি হয়েছে।
এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কয়েক দশক পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে তেহরান টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ১২ দিনের এ সংঘাতে ইসরাইলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ১৫-২০ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার।
এদিকে, ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে ক্যামেরা বসানো ও আইএইএর মহাপরিচালকের দেশটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে তেaহরান। এর প্রতিবাদে ওয়াশিংটন নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
আরাঘচি বলেছেন, ইরানি জনগণ তাদের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার কখনো বাইরের শক্তির হাতে ছেড়ে দেবে না। প্রয়োজনে রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও তারা নিজেদের অধিকার রক্ষা করবে।
সবার দেশ/কেএম




























