মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা
সিরিয়ায় যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সের বিমান হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডারে যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ও ফ্রান্সের বিমানবাহিনী। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, ওই স্থাপনায় বিস্ফোরক ও অস্ত্র মজুত ছিলো। হামলা পালমিরার উত্তরের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে বিমানগুলো পেভওয়ে ফোর বোমা নিক্ষেপ করে সুড়ঙ্গপথগুলো লক্ষ্য করে আঘাত হানে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে এবং কোনো বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। অভিযানে অংশ নেয়া সব বিমান নিরাপদে ফিরে এসেছে। হামলার ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন প্রক্রিয়াধীন থাকলেও কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন, অভিযানটি সফল হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, এ পদক্ষেপ আমাদের নেতৃত্বের পরিচয় দেয়। মধ্যপ্রাচ্যে দায়েশ এবং তাদের সহিংস আদর্শের পুনরুত্থান রুখতে আমরা মিত্রদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত। এ অভিযানে অংশ নেয়া সকল সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের পেশাদারিত্ব ও সাহসকে আমি ধন্যবাদ জানাই। সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার এ অভিযান প্রমাণ করে, আমাদের বাহিনী বছরের পর বছর দেশকে নিরাপদ রাখতে সর্বদা প্রস্তুত।
২০১৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স ড্রোন ও চালকবাহী বিমানের মাধ্যমে আইএস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়া ও ইরাকে এখনও প্রায় ৫–৭ হাজার আইএস যোদ্ধা সক্রিয় রয়েছে।
গত ডিসেম্বরে মধ্য সিরিয়ার পালমিরায় একটি হঠাৎ হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন বেসামরিক দোভাষী নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে দেশটি নভেম্বরে আইএসবিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের ৯০তম সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছে। জোটের মূল লক্ষ্য ইসলামিক স্টেটের অবশিষ্ট অংশ নির্মূল এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি যোদ্ধাদের অনুপ্রবেশ রোধ করা।
সবার দেশ/কেএম




























