Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৪৬, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

মাদুরো থেকে খামেনি

গাদ্দাফির শেষ বার্তা কেন আজও অস্বস্তিকর সত্য!

গাদ্দাফির শেষ বার্তা কেন আজও অস্বস্তিকর সত্য!
ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার পর পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী চাপ ও হস্তক্ষেপের মুখে থাকা আরেকটি দেশ ইরান। নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের হুমকি, কিংবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে উৎখাতের প্রকাশ্য ইঙ্গিত—এ ঘটনাপ্রবাহ যেন এক দশক আগে লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পরিণতিরই প্রতিধ্বনি। সময় বদলালেও কৌশল বদলায়নি, আর সে কারণেই আজ নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে গাদ্দাফির শেষ বার্তা।

নেটোর বোমাবর্ষণ, পশ্চিমা সমর্থিত বিদ্রোহ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে গাদ্দাফি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা ছিলো শুধু এক নেতার বিদায়ী ভাষণ নয়; বরং পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে তৃতীয় বিশ্বের এক দীর্ঘ অভিযোগপত্র। তিনি বলেছিলেন, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি লিবিয়ার জনগণের জন্য ঘর, শিক্ষা, চিকিৎসা ও খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন। মরুভূমিকে ফসলি জমিতে রূপান্তর করেছেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করেছেন।

গাদ্দাফির বক্তব্যে ছিলো পশ্চিমা ‘গণতন্ত্র’ রফতানির কঠোর সমালোচনা। তার মতে, যাদের বলা হচ্ছিলো স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের কথা, তারা বুঝতেই পারেনি যে এ ব্যবস্থার ভেতরে লুকিয়ে আছে করপোরেট শাসন, বৈষম্য এবং শক্তিশালীদের দ্বারা দুর্বলদের গিলে খাওয়ার নিষ্ঠুর বাস্তবতা। বিনামূল্যে শিক্ষা, চিকিৎসা বা বাসস্থানের অধিকার যেখানে নেই—সে মডেলই চাপিয়ে দিতে চাওয়া হচ্ছিলো লিবিয়ার ওপর।

তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয়কে যুক্ত করেছিলেন আরব জাতীয়তাবাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে। জামাল আবদেল নাসের ও সালাহউদ্দিন আইয়ুবির উত্তরাধিকার বহনের দাবি করে গাদ্দাফি বলেন, যেমন নাসের সুয়েজ খালকে জনগণের জন্য উদ্ধার করেছিলেন, তেমনি তিনিও লিবিয়াকে ঔপনিবেশিক লুটপাট থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করেছেন। তার ভাষায়, পশ্চিমা শক্তিগুলো লিবিয়ার স্বাধীনতা নয়, বরং তার সম্পদ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস করতেই আগ্রহী ছিলো।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিলো তার শেষ ঘোষণা—তিনি মরতে চান না, কিন্তু যদি দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের নিরাপত্তার জন্য মরতে হয়, তবে তিনি প্রস্তুত। এ বক্তব্যে ছিলো আত্মত্যাগের ভাষা, আবার একই সঙ্গে ছিলো ইতিহাসের কাছে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা।

আজ যখন ভেনেজুয়েলা ও ইরানকে ঘিরে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা, হুমকি ও শাসন পরিবর্তনের কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে, তখন গাদ্দাফির সে শেষ বার্তা নতুন করে ফিরে আসে। প্রশ্ন জাগে—পশ্চিমা হস্তক্ষেপ কি সত্যিই গণতন্ত্র আনে, নাকি আনে রাষ্ট্র ভাঙন, গৃহযুদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা? লিবিয়ার বর্তমান বাস্তবতা সে প্রশ্নেরই এক নির্মম উত্তর।

মাদুরো কিংবা খামেনির ভাগ্য কী হবে, তা ভবিষ্যৎ বলবে। তবে ইতিহাস দেখায়, যারা পশ্চিমা আধিপত্যের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজস্ব পথ বেছে নেয়, তাদের জন্য শেষ অধ্যায় প্রায়ই রক্তাক্ত হয়। গাদ্দাফির শেষ বার্তা তাই আজ শুধু স্মৃতি নয়, বরং একটি সতর্কবার্তা—তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোর জন্য, যারা এখনও নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষার চেষ্টা করছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

খামেনি হত্যার প্রতিশোধের লাল পতাকা উড়ালো ইরান
ইসরায়েলি হামলায় কেঁপে উঠলো ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন
চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ভরসা প্রাণিসম্পদ খাত, সেবার সংকটে শঙ্কা
রাষ্ট্রপতির অভিশংসনেই সংসদের যাত্রা শুরু হোক: আসিফ
ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা জামায়াত আমিরের
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের
যুক্তরাষ্ট্রে রাতভর গোলাগুলি, নিহত ৩, আহত ১৪
ভারত থেকে দেশে ফিরলো আওয়ামী এমপির লাশ
যশোরে জেলা জজ পদশূন্য, ভারপ্রাপ্ত জজের ওপর অনাস্থা
খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
কোকো ভাইয়ের অবদান তুলে ধরতে পারিনি—অনুশোচনায় তামিম
হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্ব তেলবাজার টালমাটাল-দাম লাফিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল প্রশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ
বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবীর কারাদণ্ড
খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি
আধিপত্যবাদের নগ্নরূপ: আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত: রিপোর্ট
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র চুরমার করলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা, নিহত ৮