মুরাদনগর ট্রিপল মার্ডার
ভিকটিম পরিবারের অভিযোগের জবাবে আসিফের নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান
কুমিল্লার মুরাদনগরে মা, ছেলে ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বাবা বিল্লাল মাস্টারকে গ্রেফতারের দাবি তোলার পর উপদেষ্টা ঘটনাটির রাজনৈতিক রং দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতদের পরিবারের সদস্য রুমা আক্তার দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছায়া রয়েছে এবং নির্দেশদাতা ছিলেন বিল্লাল মাস্টার। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিবারটি হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে হুমকি ও চাপের মুখে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া: ‘রাজনৈতিক প্ররোচনা চলছে’
অভিযোগের পর রাত ৭টা ৩৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ লিখেন, ঘটনার দেড় মাস পর স্ক্রিপ্ট পড়ে বাবার গ্রেফতার দাবি তোলা হচ্ছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ৯ জন আসামি গ্রেফতার হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন,
ভিকটিম পরিবারের একজন টেলিভিশনে বলেছিলেন, আসামিরা ধরা না পড়ায় উপদেষ্টার বাবা জড়িত থাকতে পারেন। অথচ এখন সরাসরি অভিযোগ তোলা হচ্ছে, যা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত।
পোস্টে সংযুক্ত ভিডিওর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, একটিতে ভিকটিম পরিবারের সদস্য স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহ আলমের বাড়িতে হত্যার পরিকল্পনার কথা বলেছেন, অথচ সংবাদ সম্মেলনে তার নাম ওঠেনি। অন্য ভিডিওতে নিহতদের বাবা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপদেষ্টার নাম মামলায় দিতে ও মিডিয়ায় প্রচার করতে চাপ দিচ্ছেন।
উপদেষ্টার দাবি: নিরপেক্ষ অনুসন্ধান প্রয়োজন
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে আহ্বান জানান,
নিরপেক্ষভাবে ঘটনাটি অনুসন্ধান করুন। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলুন, প্রমাণ পর্যালোচনা করুন। একপক্ষীয় প্রচার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
পরিবারের বক্তব্য: ‘আমরা বিচার চাই, ভীত নই’
সংবাদ সম্মেলনে রুমা আক্তার অভিযোগ করেন, একটি বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় চাঁদাবাজ গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। চাঁদা না দেয়ায় শিমুল চেয়ারম্যান, আনু মেম্বার, মতিনসহ কয়েকজন এবং উপদেষ্টার বাবার সংশ্লিষ্টতায় হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন একটি মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিলো।
তিনি বলেন,
আমাদের তিনজনকে হত্যার পর আমরা বিচার চাইতে গিয়ে আরও ভীতির মধ্যে আছি। যদি কোনও সময় আমাদের বক্তব্য পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়, সেটি যেন প্রকৃত সত্য হিসেবে বিবেচিত না হয়।
রাজনৈতিক রংয়ের অভিযোগ
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উপদেষ্টা দাবি করছেন, পরিবারের একটি অংশ রাজনৈতিক প্ররোচনায় পড়ে মিথ্যা অভিযোগ করছে, অন্যদিকে পরিবারের অভিযোগ—প্রভাবশালীদের ছায়া থাকায় বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























