ইউআরপি ও ডিএলআর মডিউল প্রস্তুত
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক যাবে শূন্য খরচে
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক যাওয়ার পুরো ব্যয় বহন করবে নিয়োগকর্তা—এমন উদ্যোগের ঘোষণা এসেছে। এ জন্য তৈরি হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ইউনিভার্সেল রিক্রুটমেন্ট প্রসেস (ইউআরপি) ও ডাইরেক্ট লেবার রিক্রুটমেন্ট (ডিএলআর) মডিউল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত এ প্রক্রিয়ায় শ্রমিকরা প্রায় শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে বিদেশ যেতে পারবেন।
ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া সরকার এ মডিউল অনুমোদন করেছে এবং বাংলাদেশ সরকারও ইতিবাচক সম্মতি দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, শিগগিরই এ পদ্ধতি চালু হবে।
ইউআরপি ও ডিএলআরের মাধ্যমে শ্রমিক ও নিয়োগকর্তার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হবে। এতে দালাল বা সিন্ডিকেটের কোনও সুযোগ থাকবে না। শ্রমিকরা এআই চালিত অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন এবং যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগকর্তা বিমান ভাড়া, মেডিকেল চেকআপ, ভিসা ও অন্যান্য খরচ বহন করবে। বাংলাদেশে বিভাগীয় ও জেলা শহরে ইউআরপি অফিস চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শ্রমিকরা মালয়েশিয়ায় পৌঁছে কাজ শুরু করলে প্রথম মাসের বেতন থেকে সার্ভিস চার্জ কেটে নেয়া হবে। এ অর্থ থেকে রিক্রুটিং এজেন্সি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ পরিশোধ করা হবে। ফলে শ্রমিকদের নিজস্ব কোনও অর্থ খরচ করতে হবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার নীতিমালা মেনে তৈরি হয়েছে, যেখানে নিয়োগকর্তার ওপর সব ব্যয়ের দায়িত্ব বর্তায়। বর্তমানে একজন শ্রমিককে ৫-৬ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়। নতুন প্রক্রিয়া চালু হলে এ খরচ শূন্যে নেমে আসবে এবং বাংলাদেশ রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এছাড়া, ডিএলআর প্ল্যাটফর্মে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্রমিকের দক্ষতা যাচাই হবে এবং নিয়োগকর্তা ও শ্রমিক নিজ নিজ ভাষায় সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। এতে ভুল বোঝাবুঝি, দুর্নীতি ও প্রতারণা কমবে।
ইউআরপি ও ডিএলআর বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ বা তার বেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে অদক্ষ শ্রমিকদের জন্যও নতুন দরজা খুলবে।
এদিকে মালয়েশিয়া সরকার ঘোষণা দিয়েছে, কলিং ভিসায় তারা ২৪ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি বিদেশি শ্রমিক নেবে। কৃষি, বাগান, খনি, হোলসেল-রিটেইল, নিরাপত্তা, কার্গো, ক্লিনিংসহ মোট ১৩টি খাতে শ্রমিক নিয়োগ হবে। আবেদন করবে কেবল অফিসিয়াল এজেন্সিগুলো এবং অনুমোদন দেবে ফরেন ওয়ার্কার্স টেকনিকাল কমিটি ও যৌথ কমিটি।
এ প্রক্রিয়া চলবে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত। এরপর শ্রমিক নিয়োগ সীমিত করে মালয়েশিয়ার মোট জনশক্তির ১০ শতাংশ পর্যন্ত অনুমতি দেয়া হবে। তবে এর মধ্যে বাংলাদেশিরা কতজন আবেদন করতে পারবে, তা এখনও জানানো হয়নি।
সবার দেশ/কেএম




























