ইসির নিবন্ধন দৌড়ে এগিয়ে ছয় দল, অপেক্ষা চূড়ান্ত অনুমোদনের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক বাছাই ও সরেজমিন তদন্তের পর ২২টি দলের অস্তিত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি দল নিবন্ধন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। কমিশনের অনুমোদন পেলেই গণবিজ্ঞপ্তি জারি হবে।
ইসির রোডম্যাপ অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করার কথা থাকলেও অভিযোগ যাচাই ও অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, নতুন দল নিবন্ধনের কাজ দ্রুত চলছে। আমাদের লক্ষ্য ছিলো এ মাসেই শেষ করা। কিন্তু বিভিন্ন অভিযোগ আসছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে সময় লাগছে। আমরা গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে নয়, নিজেদের পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করছি।
ইসি সূত্র জানায়, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগসহ ছয়টি দলের ফাইল ইতোমধ্যে কমিশনের কাছে তোলা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অনুমোদন পেলে এসব দল নিবন্ধন সনদ পাবে। এছাড়া ১০টি দলের বিষয়ে পুনঃতদন্ত এবং ছয়টি দলের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা চালু হয়। বর্তমানে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৫১টি। নতুন ছয়টি দল যুক্ত হলে তা দাঁড়াবে ৫৭-এ।
শাপলা প্রতীক নিয়ে জটিলতা
নিবন্ধন দৌড়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর একটি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে দলটির পছন্দের প্রতীক শাপলা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এনসিপি একাধিকবার শাপলা, সাদা শাপলা ও লাল শাপলা প্রতীক চেয়ে আবেদন করলেও নির্বাচন কমিশন প্রতীক তালিকায় শাপলাকে রাখেনি।
সিইসি নাসির উদ্দিন স্পষ্ট করে বলেছেন, শাপলা প্রতীক কাউকেই দেয়া হবে না। কেন দেয়া হবে না, তার ব্যাখ্যাও কমিশন দেবে না। এর জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এনসিপি নেতারা। তাদের অভিযোগ, আইনি বাধা না থাকলেও ‘ওপরের অনুমতি’ বা ‘উত্তরের সিগন্যাল’ না থাকায় ইসি প্রতীক দিচ্ছে না।
এনসিপির দাবি, প্রতীক নিয়ে কমিশনের এ অবস্থান স্বাধীন সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাইরের চাপের ফলাফল। বিষয়টি নিয়ে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
সবার দেশ/কেএম




























