কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
টিউলিপকে ফেরাতে প্রত্যর্পণ চাইবে ঢাকা
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্রিটিশ লেবার এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে একটি মামলায় চার বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এ এমপিকে দেশে ফেরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে নতুন সরকার—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রধানমন্ত্রী-নির্বাচিত তারেক রহমানের বৈদেশিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও সম্ভাব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ূন কবির ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান, নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে টিউলিপ সিদ্দিকের প্রত্যর্পণ চাইবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত যেসব ব্যক্তি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার বা অস্থিতিশীলতার অভিযোগে অভিযুক্ত, তাদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে ঢাকা। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ সরকার একটি তালিকা দেবে এবং অভিযুক্তদের ফেরত চাইবে। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অবৈধ অভিবাসন রোধে দুই দেশ অংশীদার হতে পারলে অভিযুক্তদের আশ্রয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন অবস্থান কেন থাকবে।
বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের আইনে ‘ক্যাটাগরি ২ টাইপ বি’ দেশ হিসেবে বিবেচিত। এ ধরনের দেশের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে। প্রথমে সংশ্লিষ্ট দেশ ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবেদনটি গ্রহণযোগ্য মনে করলে তা আদালতে পাঠান। আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে অভিযুক্তকে হাজির করে শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত অনুমোদন দিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আবারও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে যায়।
বর্তমান ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের জন্য বিষয়টি স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে, কারণ টিউলিপ সিদ্দিক একই দলের সংসদ সদস্য। প্রক্রিয়ার একাধিক ধাপে তাকে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
টিউলিপ সিদ্দিক শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি যুক্তরাজ্যে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করলেও পরবর্তীতে বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছিলেন। ডাউনিং স্ট্রিট এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবার সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সামাল দেয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে নতুন বিএনপি সরকার যদি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি তোলে, তাহলে তা লন্ডনের জন্য একটি জটিল কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























