চিকিৎসার জন্য আবারও লন্ডন যাচ্ছেন খালেদা জিয়া
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য আবারও লন্ডনে যাচ্ছেন। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে তার চিকিৎসার ফলোআপ জরুরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের ও বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র।
রোববার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় জানা যায়, খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রার জন্য বিএনপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার আগের চিকিৎসার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য দ্রুত লন্ডনে যাওয়া প্রয়োজন।
আগের চিকিৎসা সফরের অভিজ্ঞতা
গত ৮ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তিনি প্রায় চার মাস সেখানে ছিলেন। জানুয়ারির বেশিরভাগ সময় হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরবর্তী তিন মাস বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করেন, যেখানে তার নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসা চালানো হয়।
অতীতের বাধা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখযোগ্য যে, শেখ হাসিনার সরকার আমলে একের পর এক মামলা ও আদালতের প্রভাবিত রায়ে খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন কারারুদ্ধ ও গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিলো। অসুস্থ অবস্থায় তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দিতে পরিবার, বিএনপি ও মিত্র রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের প্রতি বারবার অনুরোধ জানালেও তা উপেক্ষিত হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তার চিকিৎসার অধিকারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলো। কিন্তু সরকার নানা সময় তীর্যক মন্তব্য করে এবং বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেয়নি।
অভ্যুত্থানের পর মুক্তি ও চিকিৎসা
৫ আগস্ট ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতিত হলে তিনি ভারতে পালিয়ে যান। সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ মুক্তি পান। এরপরই তার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাতারের আমীর বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠান। অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামে সজ্জিত এয়ারবাস এ-৩১৯ বিমানে তাকে দোহা নেয়া হয়, সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাঠানো হয়।
এবারও জরুরি চিকিৎসার তাগিদ
চিকিৎসকদের মতে, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য জটিল এবং নিয়মিত উন্নত চিকিৎসা ছাড়া ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি আবারও লন্ডনে চিকিৎসার জন্য যাত্রা করবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























