এবি পার্টি ছেড়ে জামায়াতে ফিরলেন সোলায়মান চৌধুরী
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও সাবেক সচিব এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী। এক সময়ের প্রভাবশালী এ আমলা জানিয়েছেন, তিনি আবার জামায়াতে ইসলামীতে ফিরতে যাচ্ছেন।
সোলায়মান চৌধুরী নিজেই বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিষয়টি।
তিনি বলেন, এবি পার্টি থেকে পদত্যাগের লিখিত চিঠি দলের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং এখন জামায়াতে ইসলামীতে ফেরার জন্য আনুষ্ঠানিকতা বাকি।
‘আদর্শচ্যুতি ও ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে’ হতাশা
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক পোস্টে সোলায়মান চৌধুরী এবি পার্টি থেকে পদত্যাগের পেছনে মূল কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন,
এবি পার্টি যে তিনটি মূলনীতি—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার—নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিলো, আজ তার কিছুই অবশিষ্ট নেই। দলটি এখন একটি ঢাকাকেন্দ্রিক, জনবিচ্ছিন্ন সংগঠনে পরিণত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, দলের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, তৃণমূলের সংগঠন গড়ে ওঠেনি এবং জনসম্পৃক্ততা নেই। একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার যে প্রত্যয় নিয়ে দলটি শুরু হয়েছিলো, তা এখন আর নেই, —যোগ করেন তিনি।
উপদেষ্টা পদ নিয়ে ক্ষোভ
সোলায়মান চৌধুরী জানান, দলে তাকে নামমাত্র উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে, যেখানে তার কোনও মতামতের মূল্য নেই। উপদেশ চাওয়া না হলে উপদেশ দেয়া যায় না, মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীতে ফেরার ঘোষণা
এবি পার্টি ছাড়ার পর তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বসুন্ধরায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সোলায়মান বলেন, আমি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে ঘোষণা দিয়েছি, আমি জামায়াতে ইসলামীতে ফিরে যাবো। এখন শুধু লিখিত আনুষ্ঠানিকতা বাকি।
তবে জামায়াতে ইসলামীতে তার যোগদান নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, তিনি আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কিনা বা যোগ দিচ্ছেন কিনা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
দীর্ঘদিনের সম্পর্ক জামায়াতের সঙ্গে
সোলায়মান চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ১৯৬৪ সালে নবম শ্রেণিতে থাকাকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগদানের মধ্য দিয়ে। পরে তিনি ১৯৭৫ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত হন এবং দলের রোকন হন ১৯৭৬ সালে।
সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন সময়েও তিনি ছিলেন একজন পরিচিত আমলা। ফেনীর জেলা প্রশাসক থাকা অবস্থায় জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে তিনি সংস্থাপন সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৭ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর আবারও সক্রিয়ভাবে জামায়াতে যুক্ত হন এবং দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও জাতীয় পেশাজীবী ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৯ সালে তিনি জামায়াত ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ ‘জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে যুক্ত হন, যা পরে এবি পার্টিতে রূপ নেয়।
সবার দেশ/কেএম




























