শাপলা কলি ও গণভোটে ‘হ্যা’ ভোট দেয়ার আহ্বান
সংস্কার, গণভোট ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে মাঠে নামলো এনসিপি
শাপলা কলি প্রতীকে ভোট ও সংস্কার প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ১৬ বছর পর দেশে একটি অর্থবহ নির্বাচন হতে যাচ্ছে, যেখানে শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীসহ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী যাত্রা শুরু করে এনসিপি। এ সময় দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, প্রার্থীরা এবং ১০ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শরিক দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরের পাশে অবস্থিত শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিনসহ দলের শীর্ষ নেতারা।
জিয়ারত শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ দুই জাতীয় নেতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ভিত্তি নির্মাণ করেছেন। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন, আর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তাদের আদর্শ অনুসরণ করেই এনসিপি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন করে গণতন্ত্রের ভিত্তি রচনা করতে চায়।
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে স্মরণ করে তিনি বলেন, তার কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এনসিপির এবারের নির্বাচনী যাত্রা মূলত আধিপত্যবাদবিরোধী ও আজাদির যাত্রা। এ নির্বাচন শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার নয়, বরং সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়বিচারের সংগ্রাম।
নির্বাচনে জয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, তারা সংসদে গিয়ে জনগণকে দেয়া সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চান। এ লক্ষ্যে সংস্কার প্রশ্নে আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘হ্যা’ ভোট মানেই সংস্কারের যাত্রাকে এগিয়ে নেয়া।
এনসিপির পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীদের ভোট দেয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সারা দেশে এনসিপির যে ৩০ জন প্রার্থী রয়েছেন, তাদের শাপলা কলি প্রতীকে বিজয়ী করে সংসদে পাঠাতে হবে। সংসদে গিয়ে এনসিপি ও ১০ দলীয় ঐক্য সাধারণ মানুষের কথা, গণ-অভ্যুত্থান, সংস্কার এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন তুলে ধরবে।
এ সময় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত না হলে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দুই নেতার কবর জিয়ারত শেষে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোট’ লেখা ব্যানার নিয়ে পদযাত্রা শুরু করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা। তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। পরে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ শীর্ষক পদযাত্রা শাহবাগ মোড় হয়ে রমনা পার্কের সামনের সড়ক দিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
পদযাত্রা শেষে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। তিনি ষড়যন্ত্রকারী ও খুনিদের আশ্রয় না দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান এবং একটি নিরাপদ ও সুন্দর ঢাকা-৮ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
এ কর্মসূচিতে এনসিপির নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি ১০ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলোর নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর পল্টন থানা শাখার আমির শাহিন আহমেদ খান, শাহবাগ থানা শাখার আমির আহসান হাবিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সবার দেশ/কেএম




























