বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে ১০ দলীয় জোটের সঙ্গী এনসিপি: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের স্বার্থে তারা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এর আগে বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এলডিপি ও এনসিপির জোটে যোগ দেয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। নাহিদ ইসলামের সংবাদ সম্মেলনের মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
জোট গঠনের যৌক্তিকতা
নাহিদ ইসলাম বলেন,
আমরা একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতিতে এসেছি। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এককভাবে লড়াই করার চেয়ে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়া বেশি জরুরি। তাই বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে আমরা জামায়াতসহ ১০ দলের এ নির্বাচনি সমঝোতায় যুক্ত হয়েছি।
তিনি উল্লেখ করেন, কাল সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) জোটের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করা হবে।
অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও পদত্যাগ প্রসঙ্গ
এনসিপির ভেতরে জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে চলা তীব্র মতবিরোধ ও শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগের বিষয়েও কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ছাড় দেয়ার মানসিকতা রাখতে হয়। উল্লেখ্য যে, এ জোটের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে ডা. তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নেত্রীরা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।
এনসিপির নির্বাচনি লক্ষ্য
নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপি তার মূল রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডাগুলো এ জোটের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করবে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, জোটবদ্ধ হলেও এনসিপি তার নিজস্ব রাজনৈতিক স্বকীয়তা এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা থেকে বিচ্যুত হবে না।
রোববারের এ ঘোষণার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি মোর্চার অংশ হলো। এখন দেখার বিষয়, অভ্যন্তরীণ ভাঙন সামলে এ নতুন জোট আসন্ন নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























