জোটে থেকেও ‘নতুন বন্দোবস্তের’ লড়াই চলবে: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনে জোটে অংশ নিলেও দেশের জন্য নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম থেমে থাকবে না। তিনি জানান, ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের মধ্য দিয়েও এনসিপি তাদের মূল লক্ষ্য—রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন—অব্যাহত রাখবে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে আয়োজিত এনসিপির ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ শিরোনামে দলটির নির্বাচনি রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় ২০২৪ সালের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপি এখন জোট রাজনীতির ভেতর দিয়েই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। দল গঠনের সময় দেয়া প্রতিশ্রুতি ও আদর্শের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোর কারণে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে। দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং জাতীয় মর্যাদাহানির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব বাস্তবতা থেকেই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের দাবি তৈরি হয়েছে।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ভবিষ্যতের রাষ্ট্র কাঠামো এমন হতে হবে যা স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঠেকাবে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাবে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কথাও বলেন তিনি।
জোট রাজনীতি নিয়ে সমালোচনার জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি মূলত নির্বাচনি সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত একটি প্ল্যাটফর্ম। ন্যূনতম রাজনৈতিক ঐকমত্যের জায়গাগুলোতে একসঙ্গে কাজ করা হলেও এনসিপি তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা ও ইশতেহার ধরে রাখবে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তন সম্ভব না হলেও বিভিন্ন সংস্কারের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। নির্বাচনের মাধ্যমে গণভোটের পথ তৈরি করে সেসব বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে দলটির ৩৬ দফা ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এতে এনসিপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সবার দেশ/কেএম




























