চীনে কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ২১, আহত অর্ধশতাধিক
চীনের হুনান প্রদেশে একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬১ জন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে লিউইয়াং শহরের হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস কারখানায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই কারখানার চারপাশে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। প্রায় ৫০০ উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসাকর্মী ঘটনাস্থলে কাজ করেন। ভবনের ভেতরে আটকে পড়াদের শনাক্ত করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশের জন্য রোবট প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারখানার ভেতরে থাকা দুটি গানপাউডার গুদাম উদ্ধার অভিযানে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছিলো। দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঠেকাতে পুরো এলাকা আর্দ্র রাখা এবং দাহ্য পদার্থ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে কারখানার আশপাশের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হয়।
বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাছাকাছি একটি আবাসিক ভবনের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা গেছে।
এক বাসিন্দা বলেন, বিস্ফোরণের পর তার বাড়ির দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে এবং কাচ ভেঙে যায়। আতঙ্কে অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করা এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
লিউইয়াং শহরকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আতশবাজি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। তবে নিরাপত্তা ত্রুটি ও দাহ্য রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে চীনে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও হুবেই প্রদেশে একটি আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত হয়েছিলো।
সবার দেশ/কেএম




























