টাইমস কোম্পানির বিরুদ্ধে শতাধিক প্রবাসীর আর্তনাদ
বিদেশে পাঠানোর নামে ভয়াবহ প্রতারণা
বিদেশে ভালো চাকরি, উচ্চ বেতন, ফ্রি থাকা-খাওয়ার লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের সৌদি আরবে পাঠিয়ে ভয়াবহ প্রতারণা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে টাইমস কোম্পানি ও তাদের দালাল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। কয়েকশো ভুক্তভোগী প্রবাসী বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
২ মাস ‘আয়না ঘরে’ আটকে রেখে পরে বিক্রি করা হয়
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সৌদিতে পৌঁছে প্রথমে তাদের রিয়াদের আল-গুবাইরা এলাকায় একটি ‘আয়না ঘরে’ বন্দি করে রাখা হয় প্রায় দুই মাস। এরপর বিভিন্ন সাপ্লাই কোম্পানিতে প্রতি বাংলাদেশি ১ লাখ টাকা দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়, যেখানে কর্মস্থল মূল চুক্তি থেকে ১৮০০ কিলোমিটার দূরে।
ইকামা দেয়া হয় না, খাবার-থাকার চরম সংকট
প্রবাসীদের কেউ ইকামা নম্বর পাননি। ফলে তারা সৌদির আইনগত অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। খাবার-থাকার অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবনযাপন এবং কাজ না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তারা।
প্রতিবাদ করলেই নির্যাতন
যে কেউ বিরোধিতা করলেই রুম থেকে বের করে দিয়ে অনাহারে রাখা, শারীরিক নির্যাতন, হুমকি-ধমকি ও জিম্মি করে মোবাইল কেড়ে নেয়ার মতো নির্মম ঘটনা ঘটানো হতো বলে জানান ভুক্তভোগীরা। প্রতিদিন ক্যাম্পে কান্না ও আর্তনাদ শোনা যায়।
মূল হোতা ও সিন্ডিকেট সদস্যরা
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী—
- মূল হোতা সুজন ইব্রাহিম — চেয়ারম্যান, টাইমস কোম্পানি (কিশোরগঞ্জ)। বর্তমানে দুবাই থেকে পুরো সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন। তার দুই ভাই সজল ও ইউসুফ সৌদি রিয়াদের ‘আয়না ঘর’ নিয়ন্ত্রণ করেন।
- সহযোগীরা- রিয়াজ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), জাহাঙ্গীর (নারায়ণগঞ্জ), দায়েন (গাজীপুর), অপু (সাভার), ইউসুফ, নজরুল, সাকিভ, পারভেজ, আকাশ (ভুয়া পুলিশ পরিচয়দাতা), সজল, আকরাম, খালেদ, মুসাইয়িদ, মোশাররফ, কামাল, রাকিবসহ আরও অনেকে।
জড়িত এজেন্সিগুলো (RL No: 2088)
ভুক্তভোগীদের পাঠানোর পেছনে ১২টি রিক্রুটিং এজেন্সির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- CREATIVE INTERNATIONAL
- মিম এজেন্সি
- মাশাল্লাহ এজেন্সি
- 4M INTERNATIONAL
- ধানসিঁড়ি এজেন্সি
- ডায়নামিক এজেন্সি
- (বাকি এজেন্সিগুলো তদন্তসাপেক্ষ)
এ এজেন্সিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রলোভন দেখায়, বিশেষ আপ্যায়ন করে প্রবাসীদের পাঠায় এবং সৌদিতে পাঠানোর পর তাদের জিম্মি অবস্থায় ফেলে দেয়।
প্রবাসীদের আবেদন
ভুক্তভোগীরা বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সৌদি আরবস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সাথে সকল গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন এবং সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন—এ ভয়াবহ মানবপাচারের চিত্র তুলে ধরতে।
একটি পরিবারের স্বপ্ন ধ্বংস
একজন মানুষ প্রতারণার শিকার হলে শুধু তিনি নন—একটি পরিবার, একটি ভবিষ্যৎও ভেঙে যায়। প্রতারকদের বিচার এবং মানবপাচার বন্ধে জরুরি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সবার দেশ/কেএম




























