রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বর্ণাঢ্য এ কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন
১৮ বছর পর স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ উপভোগ সাধারণের
দীর্ঘ ১৮ বছর পর মহান স্বাধীনতা দিবসে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে জাঁকজমকপূর্ণ কুচকাওয়াজ আয়োজন করা হয়েছে, যা এবার সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ার-এ রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। এর আগে সকাল থেকেই হাজারো মানুষ পুরোনো বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হয়ে এ আয়োজন উপভোগের জন্য অপেক্ষা করেন। সকাল ৮টার দিকে সাধারণ মানুষের জন্য প্রবেশদ্বার খুলে দেয়া হয়।
সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্যারেড স্কয়ারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাকে সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে পৌঁছালে তিন বাহিনীর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর খোলা জিপে করে তিনি প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন বাহিনীর ২৫টি কন্টিনজেন্ট তাকে সালাম জানায়।

প্যারেডে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিক সমরাস্ত্র ও যান্ত্রিক বহর প্রদর্শন করা হয়। ট্যাংক, কামানসহ নানা ভারী অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জামও তুলে ধরা হয়। কুচকাওয়াজের বিশেষ আকর্ষণ ছিল আকাশে ফ্লাইপাস্ট, প্যারা কমান্ডোদের ফ্রিফল জাম্প এবং বিমানবাহিনীর অ্যারোবেটিক শো।
প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ২৬ জন প্যারাট্রুপার জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন বাহিনীর পতাকা নিয়ে প্যারেড গ্রাউন্ডে অবতরণ করেন, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে। এরপর আর্মি এভিয়েশন, নেভাল এভিয়েশন, বিজিবি ও র্যাবের এয়ার উইংয়ের হেলিকপ্টার ও বিমান আকাশে উড্ডয়ন প্রদর্শন করে।
‘বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত’ প্রতিপাদ্যে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিভিন্ন ফরমেশনে কৌশল প্রদর্শন করে। পাঁচটি এফ-সেভেন যুদ্ধবিমান আকাশে রঙিন ধোঁয়া ছড়িয়ে পুরো প্যারেড গ্রাউন্ড প্রদক্ষিণ করে, যা ছিলো অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।
এর আগে বিজয় দিবসে নিয়মিত প্যারেড অনুষ্ঠিত হলেও স্বাধীনতা দিবসে এ আয়োজন দীর্ঘদিন বন্ধ ছিলো। ২০০৮ সালের পর এ প্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হলো। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং নবম পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
দুপুর ১২টার দিকে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি প্যারেডে অংশ নেয়া বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান।
সবার দেশ/কেএম




























