২৫ কার্যদিবসে ৯৪ বিল পাস
শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন
দীর্ঘ ২৫ কার্যদিবস শেষে সমাপ্ত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সমাপনী বক্তব্যের পর অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পড়ে শোনান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া এ অধিবেশনকে নতুন সংসদের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর ‘সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বতঃস্ফূর্ত’ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর গঠিত এ সংসদের প্রথম অধিবেশন হওয়ায় এর রাজনৈতিক গুরুত্বও ছিলো ব্যাপক।
অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দেন। পরে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেন। শেষ কার্যদিবসে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এ অধিবেশনে মোট ২৫টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং সেগুলোর বিপরীতে ৯১টি বিল পাস হয়েছে। এছাড়া সর্বশেষ দিনে আরও দুটি বিল পাস হওয়ায় মোট পাস হওয়া বিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪টিতে।
তিনি জানান, আইন প্রণয়ন কার্যক্রম ছাড়াও এ অধিবেশনে পাঁচটি স্থায়ী কমিটি এবং দুটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংসদীয় কার্যক্রমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর উত্তরদানের জন্য মোট ৯৩টি প্রশ্নের নোটিশ জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সংসদে ৩৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য মোট ২ হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৭৮টি প্রশ্নের উত্তর সংসদে দেয়া হয়েছে।
সংসদের বিভিন্ন বিধিতে উত্থাপিত নোটিশ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেন স্পিকার। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ ধারায় ১৬টি নোটিশ জমা পড়ে, যার মধ্যে দুটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ৬৮ ধারায় পাওয়া নয়টি নোটিশের মধ্যে একটির ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ৭১ ধারায় গৃহীত ৩৮টি নোটিশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ৭১(ক) ধারায় দুই মিনিটের বক্তব্য দেয়া হয়েছে ২০৭ বার।
স্পিকার আরও জানান, ১৬৪ ধারায় পাওয়া ১৪টি নোটিশের মধ্যে একটি গ্রহণ করে তা বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ২৬৬ ধারায় পাওয়া তিনটি নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে দুটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সমাপনী বক্তব্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংসদে একটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিলো এবং সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, যা সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়েও বিশেষ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মার্কিন সাময়িকী টাইম–এর বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্ভুক্তি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদানের প্রশংসা করে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় তার নেতৃত্ব অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ছিলো আইন প্রণয়ন, রাজনৈতিক বিতর্ক, কমিটি গঠন এবং সরকার–বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণে এক ব্যস্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ অধিবেশন।
সবার দেশ




























