মেট্রোরেলে নতুন ১০ ট্রিপ, চলবে রাত ১০টার পরও
রাজধানীর ব্যস্ততম গণপরিবহন মেট্রোরেল এখন প্রতিদিন লাখো যাত্রীর ভরসার জায়গা। অফিস টাইমে তো বটেই, সারাদিনই মেট্রোরেলে যাত্রীচাপ বেড়েছে বহুগুণ। বিশেষ কোনো দিনে সংখ্যা সাড়ে চার লাখ ছাড়িয়ে যায়। এ বাড়তি চাপ সামলাতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) শিগগিরই এমআরটি লাইন-৬ এ আরও ১০ ট্রিপ ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করেছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, রাত ১০টার পরও ট্রেন চলবে।
ডিএমটিসিএলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যাত্রীচাহিদা এতটাই বেশি যে অনেক সময় ট্রেনে জায়গা পাওয়া যায় না। মন্ত্রণালয় থেকেও ট্রেন সংখ্যা বাড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। তবে আপাতত ট্রেনের কোচ সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।
কোচ না বাড়ানোর পেছনে তিন কারণ
মেট্রোরেলের প্রতিটি ট্রেন বর্তমানে ৬ কোচের। সর্বমোট ২৪ সেট ট্রেন থাকলেও ভবিষ্যতে ৮ কোচে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এখনই অতিরিক্ত দুটি কোচ লাগানো সম্ভব হচ্ছে না তিনটি কারণে। প্রথমত, প্ল্যাটফর্মে জায়গা থাকলেও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর (পিএসডি) বাড়ানো হয়নি। দ্বিতীয়ত, কোচ বাড়াতে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন, যা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। তৃতীয়ত, অতিরিক্ত কোচ যোগ হলে বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়বে। বর্তমান ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেম অতিরিক্ত লোড নিতে পারবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। বর্তমানে ৬ কোচের ট্রেনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ যাত্রী একসঙ্গে ভ্রমণ করতে পারেন। নতুন ১০ ট্রিপ যুক্ত হলে প্রতিদিন আরও প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে।
সকালে আগেভাগে, রাতে দেরিতে ট্রেন
প্রতিদিন ভোরে নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য সকাল ৬টা ও সাড়ে ৬টায় দুটি সুইপিং ট্রেন চালানো হয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় সুইপিং ট্রেনেই (সকাল সাড়ে ৬টা) প্রথম ট্রিপ শুরু হবে, যাতে এমআরটি পাস ও র্যাপিড পাসধারীরা উঠতে পারবেন। এরপর সকাল ৭টায় উত্তরা থেকে এবং সকাল ৭টা ১০ ও ৭টা ২০ মিনিটে মতিঝিল থেকে ট্রেন ছাড়বে। বর্তমানে প্রথম ট্রেন ছাড়ে উত্তরা থেকে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে এবং মতিঝিল থেকে সকাল সাড়ে ৭টায়।
রাতে আরও ৬টি ট্রেন চলবে। বর্তমানে উত্তরা থেকে শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ৯টায় এবং মতিঝিল থেকে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে। তবে নতুন সূচি অনুযায়ী, উত্তরা থেকে রাত ৯টা ১০, ৯টা ২০ ও ৯টা ৩০ মিনিটে ট্রেন ছাড়বে। মতিঝিল থেকে ছাড়বে রাত ৯টা ৫০, ১০টা ও ১০টা ১০ মিনিটে।
বুয়েট অধ্যাপকের সমালোচনা
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, শুধু ট্রিপ বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। তার মতে, কোচ বাড়ানোই এখন জরুরি। তিনি বলেন, প্রকল্পের পরিকল্পনা করার সময় থেকেই ৮ কোচের হিসাব রাখা হয়েছিল এবং সে অনুযায়ী প্ল্যাটফর্মও তৈরি করা হয়েছে। অথচ এখন টেকনিক্যাল জটিলতা বা অর্থসংকটের অজুহাত তুলে কোচ না বাড়ানো দুঃখজনক।
তিনি আরও বলেন, মেট্রো ট্রিপ বাড়ানো মানে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাওয়া। মেট্রো একটি এনার্জি-হাঙরি পরিবহন ব্যবস্থা। মাত্র এক মিনিট হেডওয়ে কমালেই বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা দরকার।
ডিএমটিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) মোহাম্মদ ইফতিখার হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো স্টাডি পর্যায়ে আছে। স্টাডি শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে। তবে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যাতে দ্রুত নতুন ১০ ট্রিপ ট্রেন চালু করা যায়।
সবার দেশ/এফও




























