মিরপুর অগ্নিকান্ড
অবৈধ রাসায়নিক গুদামটি ৩ বার নোটিশেও বন্ধ করেনি: ফায়ার সার্ভিস
রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া রাসায়নিক গুদাম ‘আলম ট্রেডার্স’ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিলো বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। সংস্থাটির পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, গুদামটি আগেই ফায়ার সার্ভিসের তালিকাভুক্ত অবৈধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত ছিলো এবং কর্তৃপক্ষ তিনবার লিখিত নোটিশও দিয়েছিলো।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন,
আমরা আগেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলোকে জানিয়েছিলাম। তিন দফায় নোটিশ দেয়ার পরও গুদামটি বন্ধ করা হয়নি। এখন এটি অভিযান চালানোর পর্যায়ে ছিলো।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আলম ট্রেডার্সের ওই রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে। বিস্ফোরণের পর আগুন পাশের চারতলা ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির দোতলায় ‘স্মার্ট প্রিন্টিং’ নামে একটি টি-শার্ট প্রিন্টিং কারখানা এবং তিন ও চারতলায় ‘আরএন ফ্যাশন’ নামের পোশাক কারখানা ছিলো। পরবর্তীতে দোতলা ও তিনতলা থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছেন স্বজনরা।
লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন,
আমরা গতকাল সকাল ১১টা ৪০ মিনিট থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। গার্মেন্টস অংশের আগুন গতকালই নিয়ন্ত্রণে আসে, আর আলম ট্রেডার্সের রাসায়নিক গুদামের আগুন আজ (বুধবার) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে আগুন পুরোপুরি নেভানো গেলেও এখনো সেখানে প্রবেশ করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। গুদামের ভেতরে ছয়-সাত ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মজুত ছিলো। ঠিক কী ধরনের রাসায়নিক, তার প্রকৃতি বা মাত্রা কী—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাসায়নিকের তেজস্ক্রিয়তা থাকায় সার্চ অপারেশন শুরু করা যায়নি। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে আরও ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টা লাগতে পারে, বলেন তিনি।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা আরও জানান, পানি ছিটিয়ে রাসায়নিক পদার্থগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। আমরা ধাপে ধাপে, সিস্টেমেটিক উপায়ে কাজ করছি। প্রযুক্তি ব্যবহার করছি—ড্রোন দিয়ে পর্যবেক্ষণ চলছে। যেকোনও অভিযান শুরু করার আগে আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি, তিনি যোগ করেন।
গুদাম ভবনের কাঠামোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তাজুল ইসলাম। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রায় থাকার কারণে ভবনের পিলারগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। রাজউক ও ভবন বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন ছাড়া বলা যাবে না, ভবনটি কতটা নিরাপদ। এখন সেখানে যেকোনও অভিযানই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, আলম ট্রেডার্সের মূল দরজায় তালা মারা ছিল। হাইড্রলিক কাটার দিয়ে দরজা ভাঙতে হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভেতরে কেউ ছিলো না। তবে সার্চ অপারেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না।
প্রসঙ্গত, শিয়ালবাড়ির এ গুদামঘরটি আবাসিক এলাকায় পরিচালিত হচ্ছিলো। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বিপজ্জনক রাসায়নিক সংরক্ষণ করা হলেও কোনও কর্তৃপক্ষই তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি—ফলে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ঘটল যা আবারও রাজধানীর রাসায়নিক গুদাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
সবার দেশ/কেএম




























