কড়াইল বস্তির আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ১৬ ঘণ্টা পর
কড়াইল বস্তির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ১৬ ঘণ্টা লড়ে অবশেষে নিয়ন্ত্রণে, পানি সংকটে দমকলের হিমশিম
টানা প্রায় ১৬ ঘণ্টার চেষ্টার পর রাজধানীর মহাখালী কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ড সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিভে যায় বলে ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ এমও রাশেদ বিন খালিদ মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে প্রথম আগুনের সূত্রপাত ঘটে। খবর মিলতেই একে একে মোট ১৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে আগুনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ার বিন সাত্তার। তবে ধোঁয়া, বাতাস ও পানি সংকটের কারণে আগুন পুরোপুরি নিভাতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
দমকল জানায়, শুরুতে পানি সরবরাহে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা আগুন ছড়িয়ে পড়ার পরও পানির পর্যাপ্ত উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে বৌবাজার সংলগ্ন নালায় সেচপাম্প বসিয়ে পানি সংগ্রহ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস, যা আগুন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে বস্তির বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বড় আকারের বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা। নিভে যাওয়া ধ্বংসস্তূপে অনেক পরিবার রাতারাতি সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে ক্ষতিগ্রস্ত বহু মানুষ তাদের ঘর-বাড়ি, আসবাব ও জিনিসপত্রের অবশিষ্টাংশ খুঁজে ফিরতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বস্তিতে অগ্নিনির্বাপণের দ্রুত ব্যবস্থা না থাকায় আগুন মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। সরু গলি ও জনবহুল এলাকা হওয়ায় দমকলবাহিনীর প্রবেশও ছিল চ্যালেঞ্জের। আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিত নয়, তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট ছাড়াও অন্যান্য কারণ তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
কড়াইল বস্তিতে এমন বড় ধরনের আগুন নতুন নয়। অতীতে একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডে শত শত পরিবার সব হারিয়েছে। কিন্তু জরুরি সুরক্ষা অবকাঠামো, পর্যাপ্ত পানির উৎস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবারই ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভয়াবহ হয়।
দমকল বিভাগের তৎপরতায় আগুন অবশেষে নিয়ন্ত্রণে এলেও প্রশ্ন রয়ে যায়—কড়াইলের ঘিঞ্জি জনপদে আগুন লাগলেই পুনর্বার একই বিপর্যয় কেনো? কোথায় ব্যর্থতা? আর কত পরিবারকে অগ্নিদুর্বিপাকে জীবন পুনর্গঠনের লড়াইয়ে নামতে হবে?
সবার দেশ/কেএম




























