খুলনায় চক্ষু হাসপাতালে উত্তেজনা
বিএনএসবির কমিটি ভেঙে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা এমপির
খুলনার ঐতিহ্যবাহী বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে আকস্মিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগার বিদ্যমান ট্রাস্টি বোর্ড বিলুপ্ত ঘোষণা করে নিজেকে নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর শিরোমনি এলাকায় অবস্থিত এ অলাভজনক চক্ষু হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, এমপির সঙ্গে আসা বিএনপির কয়েকজন নেতা ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের সাবেক জেলা সভাপতি ডা. রফিকুল হক বাবলুকে হেনস্তা করেন এবং তাকে পদত্যাগে চাপ দেন। এ সময় তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলেও আখ্যা দেয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতাল পরিদর্শনের শুরুতে পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও কিছু সময়ের মধ্যে এমপির সঙ্গে থাকা নেতারা ডা. বাবলুর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। কয়েকজন তার দিকে তেড়ে গেলে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। পরে মোহাম্মদ আলী আসগার ট্রাস্টি বোর্ড বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং নতুন কমিটি গঠনের আগ পর্যন্ত নিজেই চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার কথা জানান।
ডা. রফিকুল হক বাবলু বলেন, এমপির আগমন উপলক্ষে তারা স্বাভাবিকভাবেই প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু এমপি তার কক্ষে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা অভিযোগ তুলে উত্তেজনা তৈরি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে তিনি এমপির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন বলে জানান।
হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের পরিচালক ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এস এ রহমান বাবুল বলেন, সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিলো, হঠাৎ পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ছয় বছরের জন্য গঠিত ট্রাস্টি বোর্ড শুধু মৌখিক ঘোষণায় ভেঙে দেয়া আইনগতভাবে কতটা বৈধ—তা সংশ্লিষ্টরাই ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে এমপি মোহাম্মদ আলী আসগার বলেন, হাসপাতাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ আসছিলো। কয়েকজন ভুক্তভোগীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ শুনে এবং উত্তেজিত পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, চিকিৎসক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হবে।
উল্লেখ্য, বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল ১৯৭৬ সাল থেকে অলাভজনক ভিত্তিতে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। একসময় দেশের খ্যাতিমান চিকিৎসকদের নেতৃত্বে পরিচালিত হলেও সময়ের সঙ্গে এটি রাজনৈতিক প্রভাবের আওতায় পড়ে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হয়, যার চেয়ারম্যান ছিলেন ডা. রফিকুল হক বাবলু। বোর্ডটির মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত। এর চেয়ারম্যান করা হয় বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসক নেতা ডা. বাবলুকে। ভাইস চেয়ারম্যান হন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মাইনুল ইসলাম। ১১ সদস্যের বোর্ডের সাতজন বিএনপি সমর্থিত, দুজন জামায়াত, একজন ছাত্র প্রতিনিধি এবং একজন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছিলেন।
সবার দেশ/কেএম




























