Sobar Desh | সবার দেশ মুনির হাসান, জেলা প্রতিনিধি (গাইবান্ধা)

প্রকাশিত: ০০:৫৮, ৫ জানুয়ারি ২০২৬

গাইবান্ধায় ৫টি আসনে ১৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

গাইবান্ধায় ৫টি আসনে ১৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
ছবি: সবার দেশ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গাইবান্ধা জেলার মোট পাঁচটি সংসদীয় আসনে জমা হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৪৫ প্রার্থীর মধ্যে ১৬ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। অপরদিকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ মোট ২৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, বাম দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ২৭ ও ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন। 

শুক্রবার ও শনিবার (২ ও ৩ জানুয়ারি) দুই দিনব্যাপী জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে এসব সিদ্ধান্ত জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। প্রথম দিন গাইবান্ধা-১ ও গাইবান্ধা-২ আসনে ৮ এবং দ্বিতীয় দিন গাইবান্ধা-৩, ৪ ও ৫ আসনে আরও ৮ জনসহ মোট ১৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, দলীয় কাগজপত্রে ত্রুটি, হলফনামা ও সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা, টিআইএন সার্টিফিকেটে অসঙ্গতি, অনেকে প্রার্থীর ঋণখেলাপি হওয়াসহ বিভিন্ন আইনগত ও প্রক্রিয়াগত কারণে এসব মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) এ আসনে মনোনয়ন জমা দেন ১০ জন প্রার্থী। যাচাই-বাছাই শেষে ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। প্রথমে শিক্ষকতায় চাকরির বিষয় দেখিয়ে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সহযোগী অধ্যাপক মাজেদুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হলেও পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষে তা বৈধ ঘোষণা করা হয়। সমর্থনকারী ভোটারের ত্রুটি, দলীয় কাগজ না থাকা ও অন্য অসঙ্গতির কারণে দুই স্বতন্ত্র ও দুই দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল হক জিয়া, জামায়াতে ইসলামীর মাজেদুর রহমান, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, এলডিপির শরিফুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদী পরমানন্দ দাস ও আমজনতা দলের কাওছর আজম হান্নু।

গাইবান্ধা-২ (সদর) এ আসনে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা ও দলীয় মনোনয়ন সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে কমিউনিস্ট পার্টির মিহির কুমার ঘোষসহ তিনজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বৈধ ঘোষণা করা হয় ৫ প্রার্থীকে। তারা হলেন— বিএনপির আনিসুজ্জামান খান বাবু, জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ সরকার, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল করিম, সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদীর আহসানুল হক ও জনতার দলের শাহেদুর রহমান। এর আগে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) মনোনয়ন বাতিল করা হলেও একইদিনে রাতে তার প্রার্থীতা ফিরে পায়। তবে জনমনে প্রশ্ন গাইবান্ধা সদর-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী  মোঃ আব্দুল মাজেদকে একই কারণ দেখিয়ে তার প্রার্থীতা বাতিল করা হলে কেন তার মনোনয়ন বৈধ হবে না এমন প্রশ্নের ঘুরপাক খাচ্ছে নেট দুনিয়ায় ও তার কর্মী সমর্থকদের মাঝে।  

অন্যদিকে, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনে দলীয় কাগজপত্র ও সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় জনতার দলের মনজুরুল হক, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম খাদেমুল ইসলাম ও আজিজার রহমানসহ তিন জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ আসনে ১০ জনের মধ্যে ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু, জাতীয় পার্টির মইনুর রাব্বি চৌধুরী, গণ অধিকার পরিষদের সুরুজ মিয়া, সিপিবির আব্দুল্লাহ আদিল, ইনসানিয়াত বিপ্লবী বাংলাদেশের মোছাদ্দিকুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের এ টি এম আওলাদ হোসাইন।

এ ছাড়া গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ আকন্দের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ আসনে ছয় জনের মধ্যে পাঁচ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, জামায়াতে ইসলামীর ডা. আব্দুর রহিম সরকার, জাতীয় পার্টির কাজী মো. মশিউর রহমান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আতিয়ারুল রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন।

অপরদিকে, গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি–সাঘাটা) আসনে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। দলীয় কাগজে ত্রুটি ও ঋণখেলাপির অভিযোগে গণ অধিকার পরিষদের সামিউল ইসলাম এবং দলীয় কাগজে স্বাক্ষর না থাকায় সিপিবির শ্রী নিরমলের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া হলফনামা, সমর্থনকারী ভোটারের স্বাক্ষর ও টিআইএন সার্টিফিকেট না থাকায় দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

আসনটিতে ১১ জনের মধ্যে বৈধ ঘোষণা করা হয় ৭ জনকে। তারা হলেন— বিএনপির ফারুক আলম সরকার, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল ওয়ারেছ, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ইসলামী আন্দোলনের আজিজুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদী দলের রাহেলা খাতুন, নাহিদুজ্জামান নিশাদ ও এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, সব প্রার্থীকে নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।

উল্লেখ্য, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলা ও চাঁরটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৮২ হাজার ৪০১ জন, নারী ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩৬ জন। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৬৭৫টি এবং ভোটকক্ষ রয়েছে ৪ হাজার ১০১টি।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

সোনারগাঁয়ে ছিনতাইকারীদের সিএনজিতে জনতার আগুন
ইরানবিরোধী হামলায় সৌদি আকাশসীমা নয়: যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা রিয়াদের
নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের হুঁশিয়ারি
বিমান পরিচালনা পর্ষদে সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি
একুশে বইমেলা-২০২৬ শুরু ২০ ফেব্রুয়ারি
পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা ২ বছরের মুনাফা পাবেন না
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য সব ধরনের মার্কিন ভিসা স্থগিত
দীর্ঘ বিরতির পর কুমিল্লায় তারেক রহমান
সোনার ভরি ছাড়ালো ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা
নাটোরের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান বাগাতিপাড়ার সামসুন্নাহার ও তৌহিদুল হক
ছাত্রীকে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের পলায়ন, মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ
নোয়াখালীতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার ২
মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ভারতীয় ইলিশের চালান আটক
ইরান বিক্ষোভ দমনে সফল, সরকারপন্থিদের দখলে রাজপথ
রংপুরে বিষাক্ত মদপানে মৃত্যু মিছিল, সংখ্যা বেড়ে ৮
চেম্বার আদালতেও হতাশ হাসনাতের আসনের বিএনপি প্রার্থী মুন্সী
বিএনপি নেতা সাজু বহিষ্কার
তারেক রহমানের সঙ্গে ১২ দলীয় জোটের সাক্ষাৎ
আমিরাতে ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দির মুক্তি
ইরানে হস্তক্ষেপ হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি উড়িয়ে দেবেন খামেনি