বিস্ফোরণে আতঙ্ক
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে ফতুল্লার শিহাচর হাজীবাড়ি মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকরা হলেন— কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন, আকাশ, জুয়েল, রিয়াজুল, রাজিব, জিহাদ ও রশিদ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিহাচর এলাকার হাজীবাড়ি মোড় ঘিরে ইউনুস মাস্টার গ্রুপ ও জয়নাল আবেদীন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। শনিবার দুপুরে সে বিরোধ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যাব, পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালান।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মো. চৌধুরী বলেন, সংঘর্ষে জড়িত উভয় পক্ষই পরস্পরের আত্মীয়-স্বজন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এসব বিরোধের জের ধরেই বছরে এক-দুবার এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আব্দুল মান্নান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আটজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের কয়েকজনের কাছ থেকে গাঁজা ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিস্ফোরিত বোমার কিছু অংশও জব্দ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটক করতে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
সবার দেশ/কেএম




























