চট্টগ্রামে সিএমপির নিষিদ্ধ তালিকা
‘দুষ্কৃতকারী’র তালিকায় সাবেক মন্ত্রী–মেয়র, আ.লীগ–বিএনপি নেতা ও চিন্ময় কৃষ্ণ
চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৩৩০ জন ব্যক্তির প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এ তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের সাবেক মন্ত্রী, মেয়র, সংসদ সদস্য ও কাউন্সিলরদের পাশাপাশি রয়েছেন বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী, আলোচিত সনাতনী জাগরণী মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী এবং বিভিন্ন সময় আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা এই গণবিজ্ঞপ্তিতে তালিকাভুক্ত সবাইকে ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এসব ব্যক্তির নগরীতে প্রবেশ ও অবস্থান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নগর পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার আমিনুর রশীদ জানান, জনসাধারণের জানমাল রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মী ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে পলাতক রয়েছেন। কয়েকজন গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, মহিউদ্দিন বাচ্চু, ফজলে করিম চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান ও নগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুচ ছালাম।
সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যেও বড় একটি অংশ এ তালিকায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন শৈবাল দাশ সুমন, নুর মোস্তফা টিনু, গাজী শফিউল আজম, সাহেদ ইকবাল বাবু, শফিকুল ইসলাম, এসরারুল হক, এম আশরাফুল আলম, মোহাম্মদ হোসেন হীরন, আব্দুল কাদের ওরফে মাছ কাদের, মোহাম্মদ ইসমাইল, জহুরুল আলম জসিম, মোরশেদ আলম, মোবারক আলী, নিছার উদ্দিন আহমেদ, মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, আবুল হাসনাত বেলাল, মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শহিদুল আলম, হারুন উর রশীদ, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, নুরুল আলম, মোহাম্মদ সলিম উল্লাহ, মোহাম্মদ জাবেদ, নাজমুল হক ডিউক, আব্দুর সবুর লিটন, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, গোলাম মো. জোবায়ের, আতাউল্লা চৌধুরী, আব্দুস সালাম, জহর লাল হাজারী, হাসান মুরাদ বিপ্লব, কফিল উদ্দিন, পুলক খাস্তগীর, হাজী নুরুল হক, মোর্শেদ আলী, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, জিয়াউল হক সুমন, আবদুল বারেক ও ছালেহ আহমেদ চৌধুরী।
যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক সাবেক ও বর্তমান নেতাও এ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপ-অর্থ সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, রিটু দাশ বাবলু, মশিউর রহমান দিদার, খলিলুর রহমান নাহিদ, নগর যুবলীগের সভাপতি দেবাশীষ পাল দেবু, নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমন, সাদ্দাম হোসেন ইভান, সুভাষ মল্লিক সবুজ এবং সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরী।
তালিকায় বিএনপির নেতারাও রয়েছেন। নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম ওরফে খাজার নাম রয়েছে নিষেধাজ্ঞায়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক স্বর্ণ ছিনতাই মামলায় তদন্তে উঠে আসা নগর ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুল এবং তার ভাই সবুজও তালিকাভুক্ত। সাইফুলের বিরুদ্ধে নগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং সম্প্রতি তিনি গ্রেফতার হয়েছেন।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম আদালতে সংঘর্ষ ও আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় একাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাবন্দী সনাতনী জাগরণী মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নামও রয়েছে এ তালিকায়।
শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যেও রয়েছেন বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খানের খালাত ভাই মোহাম্মদ, বর্তমানে কারাবন্দী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না, একই গ্যাংয়ের সদস্য খোরশেদ, বেলাল উদ্দিন মুন্না, মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, মোবারক হোসেন ইমন, হেলাল, বায়েজিদ এলাকার ‘পাহাড়খেকো’ হিসেবে পরিচিত বাহার উদ্দিন ওরফে বাহার, শামসুদ্দিন বাদল, দেলোয়ার হোসেন দেলু, শাহজাহান বাদশা, বহদ্দারহাটের আলোচিত সন্ত্রাসী শহীদুল ইসলাম বুইশ্যা, ইসমাইল হোসেন টেম্পু, নুরুল আলম ওরফে হামকা নুর, রবিউল ইসলাম রাজু ওরফে হামকা রাজু, আকবরশাহ এলাকার নুরে আলম নুরু, সম্রাট এবং সদরঘাট এলাকার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে জাহাঙ্গীর মাঝি।
সিএমপি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
সবার দেশ/কেএম




























