ডাকসু নির্বাচন ২০২৫
শিবির সমর্থিত জোটের ভূমিধস জয়, ছাত্রদলের ভরাডুবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট বিপুল জয় পেয়েছে। সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)সহ অধিকাংশ পদে বিজয়ী হয়েছে এ জোট। এতে ছাত্রদল, বামধারা কিংবা অন্যান্য প্যানেল কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ভিপি পদে সাদিক কায়েমের বিপুল জয়
ভিপি পদে ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত আবিদুল ইসলাম খান পান মাত্র ৫ হাজার ৭০৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা ও শামীম হোসেন যথাক্রমে ৩ হাজার ৩৮৯ এবং ৩ হাজার ৬৮১ ভোট পান।
জিএস ও এজিএস পদে জয়
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে শিবির সমর্থিত এস এম ফরহাদ পেয়েছেন ১০ হাজার ৭৯৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলীয় প্রার্থী তানভীর বারী হামীম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৮৩ ভোট। প্রতিরোধ পর্ষদের প্রার্থী মেঘমল্লার বসু পান ৪ হাজার ৯৪৯ ভোট এবং বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের আবু বাকের মজুমদার পান ২ হাজার ১৩১ ভোট।
সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে মহিউদ্দীন খান পান ১১ হাজার ৭৭২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলীয় প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ পান মাত্র ৫ হাজার ৬৪ ভোট।
গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় পদগুলোও জোটের দখলে
শিবির সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা অন্যান্য সম্পাদকীয় পদেও বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক হয়েছেন ফাতেমা তাসনিম জুমা (১০৬৩১ ভোট), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার (৭৮৩৩), কমন রুম-রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা (৯৯২০), আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসীমউদ্দিন খান (৯৭০৬), ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন (৭২৫৫), ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ (৯০৬১), ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম (৯৩৪৪), স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ (৭০৩৮), মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক সাখাওয়াত জাকারিয়া (১১,৭৪৭)।
স্বতন্ত্রদের ছোট্ট সাফল্য
শিবির সমর্থিত জোটের একচেটিয়া বিজয়ের মাঝেও তিনটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হয়েছেন মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ (৭৭৮২ ভোট), গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন জুলাই আন্দোলনের আলোচিত মুখ সানজিদা আহমেদ তন্বি (১১,৭৭৮ ভোট), আর সমাজসেবা সম্পাদক হয়েছেন যুবাইর বিন নেছারী (৭৬০৮ ভোট)।
ফলাফল প্রত্যাখ্যান ও অভিযোগ
ফলাফল ঘোষণার পরপরই পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে আবিদুল ইসলাম খান ও উমামা ফাতেমা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছেন। ছাত্রদল সমর্থিত আরেক প্রার্থী আব্দুল কাদেরও নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে বিজয়ী সাদিক কায়েমও ভোটগ্রহণ চলাকালে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেছিলেন। তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধেও ছাত্রদলকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার অভিযোগ এনেছিলেন।
ভোটগ্রহণ ও অংশগ্রহণ
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে পাঁচটি ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ জন এবং ১৩টি ছাত্র হলে ২০ হাজার ৯১৫ জন ভোটার তালিকাভুক্ত ছিলেন।
ডাকসুর ২৮টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৪৭১ জন প্রার্থী। পাশাপাশি ১৮টি হলে ২৩৪টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আরও ১ হাজার ৩৫ জন। শিক্ষার্থীদের প্রতিজনকে মোট ৪১টি করে ভোট দিতে হয়েছে।
আপনি কি চান আমি এখন এটার সাথে ছাত্রদল ও বামদের প্রতিক্রিয়া এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে আরও গভীর বিশ্লেষণাত্মক রিপোর্ট তৈরি করি?
সবার দেশে/কেএম




























