ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের ভাই চবি হল সংসদে বিজয়ী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে সোহরাওয়ার্দী হল সংসদে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন আরবি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু আয়াজ। তিনি ঢাবির ভিপি ও আলোচিত ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমের ছোট ভাই।
আবু আয়াজ একই সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী হল শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীও।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভাই সাদিক কায়েম বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ঢাকসু)র ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের পরিবার খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নয়নপুর গ্রামে বসবাস করলেও মূল পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। আয়াজের বাবা একজন কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন, যিনি প্রায় ৪০ বছর আগে ব্যবসায়িক কারণে স্থায়ীভাবে খাগড়াছড়িতে বসবাস শুরু করেন। চার ভাইবোনের মধ্যে আবু আয়াজ সাদিক কায়েমের একমাত্র ছোট ভাই।
উল্লেখ্য, বুধবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে উৎসবমুখর পরিবেশে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলো ব্যাপক আগ্রহ।
এবারের নির্বাচনে ১৩টি প্যানেলের ৯০৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোট ২৩২টি পদে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৪১৫ জন প্রার্থী এবং ১৪টি হল ও একটি হোস্টেল সংসদের ২০৬টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন আরও ৪৯৩ জন। নারী প্রার্থী ছিলেন ৪৭ জন।
চাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ দাপট দেখিয়ে ভিপি ও জিএসসহ ২৪টি পদে জয় পেয়েছে। ভিপি পদে ইতিহাস বিভাগের এমফিল শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম হোসেন রনি পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৮৩ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৭৪ ভোট।
জিএস পদে ৮ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন শিবির-সমর্থিত সাঈদ বিন হাবিব। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের মো. শাফায়াত পেয়েছেন ২ হাজার ৭২৪ ভোট।
সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয় পেয়েছেন ছাত্রদল-সমর্থিত আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৭২ ভোট, আর শিবির-সমর্থিত সাজ্জাত হোসেন মুন্না পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৮৪ ভোট।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নির্বাচনকে অনেকেই নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক জাগরণের সূচনা হিসেবে দেখছেন। একই পরিবারের দুই ভাই—একজন ডাকসু, অন্যজন চাকসুর নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় শিক্ষাঙ্গনে কায়েম পরিবার এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সবার দেশ/কেএম




























