ক্লাসে ফিরছেন সবাই
শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ১৫ শতাংশে উন্নীত, আন্দোলন স্থগিত
দীর্ঘ টানাপোড়েন, অবস্থান কর্মসূচি ও অবশেষে সমঝোতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন। অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছে—দুই ধাপে তাদের বাড়িভাড়া ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এ ঘোষণার পর আন্দোলন স্থগিত করে বুধবার (২২ অক্টোবর) থেকে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার দুপুরে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট। আন্দোলন আপাতত প্রত্যাহার করছি, আগামীকাল থেকেই শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাসে ফিরবেন।
একই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭.৫ শতাংশ (ন্যূনতম ২০০০ টাকা) এবং ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আরও ৭.৫ শতাংশ বাড়ানো হবে। ফলে মোট ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া কার্যকর হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ও এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোসা. শরিফুন্নেসা স্বাক্ষরিত সম্মতিপত্রে বলা হয়, সরকারের বাজেট সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দুই ধাপে বাস্তবায়ন শেষে মূল বেতনের সর্বমোট ১৫ শতাংশ হারে (ন্যূনতম ২০০০ টাকা) বাড়িভাড়া প্রদান করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি কারও একার জয় নয়, এটি সম্মিলিত সাফল্য। শিক্ষক সমাজের আন্দোলন আমাদের বাস্তবতা বুঝিয়েছে, সরকার দায়িত্বশীলভাবে সাড়া দিয়েছে, আর সবাই মিলে আমরা এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছি যেখানে সম্মান, সংলাপ ও সমঝোতাই জয়ী হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এখন সময় ক্লাসে ফেরার—শিক্ষার্থীদের কাছে, আমাদের প্রকৃত কর্মক্ষেত্রে। আজকের এ সমঝোতা হোক নতুন সূচনা; পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও মানসম্মত শিক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠুক একটি মর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ।
গত ১২ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি, সচিবালয় অভিমুখে মিছিল এবং শাহবাগে সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাদের তিন দফা দাবি ছিলো—মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা, এবং উৎসব ভাতা ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে যদিও তিনটি দাবির মধ্যে কেবল বাড়িভাড়া ইস্যুতেই সাড়া মিলেছে, তবুও শিক্ষক নেতারা এটিকে ‘সংলাপের সফল সূচনা’ হিসেবে দেখছেন। তারা জানিয়েছেন, এটি প্রথম পদক্ষেপ। আমরা আশা করি, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতার বিষয়েও সরকার ইতিবাচক হবে।
শিক্ষা অঙ্গনের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ সমঝোতা সাময়িক শান্তি আনলেও, ভবিষ্যতে পূর্ণ দাবিগুলো নিয়ে আবারও আলোচনার প্রয়োজন পড়বে। তবুও আপাতত শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ অচলাবস্থা শেষে স্বস্তির ক্লাসরুমে ফিরছে—এটাই বড় খবর।
সবার দেশ/কেএম




























