কয়েকটি বিমান ভূপাতিত করেছি, তবে প্রমাণ নেই: নয়াদিল্লি
ভারতের দাবি—তারা পাকিস্তানের কয়েকটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তবে নয়াদিল্লি জানায়, ভূপাতিত বিমানগুলোর ধ্বংসাবশেষ সীমান্তের বাইরে পড়ায় সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে।
রোববার (১১ মে) এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের সামরিক অভিযানের মহাপরিচালক (ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস – ডিএমজিও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই বলেন, আমরা নিশ্চিতভাবে কয়েকটি পাকিস্তানি বিমান ভূপাতিত করেছি। তবে সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ সীমান্তের বাইরে পড়েছে, তাই হাতে কোনও শারীরিক প্রমাণ নেই।
আরও পড়ুন <<>> ভারতের সিঁদুর মুছে দিলো ‘অপারেশন বুনইয়ান-উন মারসুস’
তিনি আরও বলেন, আমরা এখনও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি। সীমান্তের ওপারে অবস্থান করায় সরাসরি তদন্ত সম্ভব হচ্ছে না।
সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ:
ডিএমজিও ঘাই জানান, ৭ থেকে ১০ মে—এ তিন দিনের মধ্যে কাশ্মীর সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন সদস্য নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ভারতীয় বাহিনীর অভিযানে ১০০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
তবে এ সংঘর্ষে ভারতেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাঁচ জন ভারতীয় সেনাসদস্যের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
পাল্টা দাবি পাকিস্তানের:
পাকিস্তানও নিজেদের অবস্থানে অনড়। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান তারা ভূপাতিত করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন:
রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এ পাল্টাপাল্টি দাবি কেবল মাত্র সামরিক শক্তি প্রদর্শনের কৌশল নয়, বরং চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সীমান্তে এমন স্পর্শকাতর সংঘর্ষ ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।
ধ্বংসাবশেষ নেই, তবু যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি। সামরিক তথ্যের এ ঘোলাটে পরিবেশে সত্য অনুধাবন কঠিন। তবে সীমান্তে রক্ত ঝরছে—এটাই আপাতত নিশ্চিত। প্রশ্ন হচ্ছে, দুই দেশের এ উত্তেজনার শেষ কোথায়?
সবার দেশ/কেএম




























