Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:২৯, ১৮ জুন ২০২৫

ইরানের হামলার ভয়ে ৩০টি যুদ্ধবিমান সরিয়ে নিলো যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের হামলার ভয়ে ৩০টি যুদ্ধবিমান সরিয়ে নিলো যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৩০টি সামরিক ট্যাংকার বিমান ইউরোপে স্থানান্তর করেছে। গত তিন দিনে এসব বিমান স্পেন, স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়া হয়।

ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটট্রেডার২৪-এর তথ্যমতে, সরানো বিমানগুলোর মধ্যে সাতটি কেসি-১৩৫ মডেলের, যেগুলো যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানগুলোকে আকাশেই জ্বালানি সরবরাহে সক্ষম।

এ পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো যখন ইসরায়েল ও ইরান পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে। গত শুক্রবার ইসরায়েল ইরানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের এ সামরিক বিমান মোতায়েন সরাসরি ওই সংঘাতের অংশ কি না, তা নিশ্চিত নয়, তবে বিশ্লেষকেরা একে ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ ও ‘সামরিকভাবে ইঙ্গিতপূর্ণ’ পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

‘তীব্র সামরিক অভিযান’ সহায়তার প্রস্তুতি?

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেন, এ মোতায়েন আসলে সংকেত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলকে সামরিকভাবে সহায়তা করতে বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখছে।

একইসঙ্গে আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রতিরক্ষা প্রধান ভাইস-অ্যাডমিরাল মার্ক মেলেট মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপগুলো নিয়েছে বৃহত্তর কৌশলগত অস্পষ্টতা নীতির আওতায়। ইরানকে পারমাণবিক আলোচনায় ফিরে আনতে এমন ঘনীভূত উপস্থিতি ব্যবহার করা হতে পারে।

উন্নত যুদ্ধবিমান ও হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের তিন কর্মকর্তা ‘রয়টার্স’কে নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ‘এফ-১৬, এফ-২২’ এবং ‘এফ-৩৫’ মডেলের উন্নত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। ইউরোপে পাঠানো ট্যাংকার বিমানগুলো এ যুদ্ধবিমানে আকাশে জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত হবে বলে জানা গেছে।

তাছাড়া মঙ্গলবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের অভিযানে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এ সমন্বিত সামরিক গতিবিধি এবং যুদ্ধ সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাস কেবল সরাসরি সংঘাতের প্রস্তুতি নয়, কৌশলগত বার্তা ও চাপ প্রয়োগের অংশও হতে পারে। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের নতুন অধ্যায় উন্মোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ