Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:০৬, ৬ অক্টোবর ২০২৫

অধিকারকর্মীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন

টয়লেটের পানি পান করে বেঁচেছিলেন ফ্লোটিলার যাত্রীরা

টয়লেটের পানি পান করে বেঁচেছিলেন ফ্লোটিলার যাত্রীরা
ছবি: সংগৃহীত

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অধিকারকর্মীদের ওপর অকল্পনীয় নির্যাতন চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রা করা এ আন্তর্জাতিক ত্রাণবহরের শত শত কর্মীকে আটক করে তাদের ওপর চালানো হয়েছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। কয়েকদিন ধরে না খাইয়ে রাখা হয়, এমনকি টয়লেটের পানি পান করে টিকে থাকতে হয়েছে অনেককে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাদের কবল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফ্লোটিলার কয়েকজন যাত্রী ভয়াবহ নির্যাতনের বিবরণ দিয়েছেন। তারা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে থাকতে বাধ্য করা হয়, মারধর করা হয় এবং পানি ও খাবার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়।

বুধবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে প্রায় ৪৫০ জন অধিকারকর্মীকে আটক করে ইসরায়েলি সেনারা। ফ্লোটিলা অবরুদ্ধ গাজায় প্রতীকী মানবিক সহায়তা নিয়ে যাচ্ছিলো।

রোমে ফিরে এসে ইতালির অধিকারকর্মী সিজার তোফানি বলেন, আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা কোনোভাবেই মানবিক নয়। আমাদের হয়রানি করা হয়েছে, ভয় দেখানো হয়েছে।

ইতালির ইসলামিক কমিউনিটির সভাপতি ইয়াসিন লাফ্রাম বলেন, আমাদের দিকে অস্ত্র তাক করে রাখা হয়েছিলো, মারধর করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে যারা দাবি করে, তাদের এমন আচরণ লজ্জাজনক।

ফ্লোটিলায় থাকা সাংবাদিক সাভারিও টমাসি জানান, সৈন্যরা ওষুধ আটক রেখেছে এবং বন্দিদের সঙ্গে ‘বানরের মতো’ আচরণ করেছে। তিনি বলেন, গ্রেটা থুনবার্গ, ম্যান্ডলা ম্যান্ডেলা এবং ইউরোপের কয়েকজন এমপিকে নিয়েও তারা হাসাহাসি করেছে।

আরেক সাংবাদিক লরেঞ্জো ডি’আগোস্তিনো অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি সেনারা তার জিনিসপত্র ও টাকা চুরি করেছে। তুরস্কে নির্বাসিত হওয়ার পর তিনি বলেন, 

আমাদের দিকে বন্দুকের লেজার তাক করে ভয় দেখানো হয়েছে, এমনকি কুকুর লেলিয়ে দিয়েছে।

অধিকারকর্মী পাওলো ডি মন্টিস জানান, তাকে জিপ টাই দিয়ে হাত বেঁধে ঘন্টার পর ঘণ্টা প্রিজন ভ্যানে আটকে রাখা হয়েছিলো। আমাকে মাথা নিচু করে রাখতে বলা হয়েছিলো, ওপরে তাকাতেই একজন এসে মাথার পেছনে আঘাত করে, বলেন তিনি।

মালয়েশিয়ার গায়িকা বোন জুটি হেলিজা ও হাজওয়ানি হেলমি জানান, আমাদের টয়লেটের পানি পান করতে হয়েছে। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। সৈন্যরা বলেছে, তারা কি মারা গেছে? না হলে এটা আমার সমস্যা নয়।

হেলিজা জানান, 

আমি ১ অক্টোবরের পর আর কিছু খেতে পারিনি। তিন দিন কিছু খাইনি—শুধু টয়লেটের পানি পান করেছি।

এর আগে ছাড়া পাওয়া কয়েকজন কর্মী দাবি করেন, 

গ্রেটা থুনবার্গকেও নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে মাটিতে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খেতে বাধ্য করা হয় এবং পরবর্তীতে প্রচারণার কাজে ব্যবহার করা হয়।

মানবাধিকারের ইতিহাসে এটি এক নতুন কলঙ্ক—যেখানে মানবিক সহায়তা বহনকারীদেরকেই মানবতার শত্রুর মতো আচরণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ