Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:১৯, ৫ অক্টোবর ২০২৫

‘কী হবে জানি না, তবু যাচ্ছি’── গাজার পথে শহিদুল আলম

‘কী হবে জানি না, তবু যাচ্ছি’── গাজার পথে শহিদুল আলম
ছবি: সংগৃহীত

গাজা উদ্দেশ্যে যাত্রা করা নৌবহরে থাকা বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম বলেছেন, পরিস্থিতি অনিশ্চিত হলেও গাজার দিকে যাচ্ছেন। 

তিনি বলেন, আমরা এখন গাজা থেকে প্রায় ৩৭০ নটিক্যাল মাইল (৬৮৫ কিলোমিটার) দূরে অবস্থান করছি এবং স্বাভাবিক গতিতে এক দিনের মধ্যে গাজা পৌঁছানো সম্ভব। তবে ছোট নৌযানগুলো ফেলে যাওয়া হবে না বলে এ কারণে সময় বেশি লাগতে পারে।

নৌবহরের আবহাওয়া বারবার বদলাচ্ছে। শহিদুল জানান, এক পর্যায়ে মেঘলা ও খারাপ ছিলো; বর্তমানে মেঘলা হলেও উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। জাহাজে থাকা একটি ড্রোন ওয়াচের মাধ্যমে তারা নজরদারি আছে কি না তদারকি করছেন, কিন্তু সবকিছু চোখে ধরা পড়ে না বলেও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে অক্টোবরের ২ তারিখে কাছে আসে একটি নেভি জাহাজ; পরে তা ইসরায়েলি না, অন্য কোনও দেশের—তুরস্ক ইত্যাদি—ও হতে পারে বলে তারা খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হয়েছিলেন।

শহিদুল স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১০ সালে ইসরায়েল গাজার ফ্রিডম ফ্লোটিলায় হামলা করে দশ জনকে হত্যা করে এবং বহু লোককে গ্রেফতার ও নির্যাতন করেছিলো। এবার এতগুলি নৌযান একসঙ্গে যাওয়ায় চাপ বেড়ে গেছে এবং তারা জানতে চায়, তাদের ওপর কেমন আচরণ হবে—অবস্থান ও জাহাজের উচ্চতা ইসরায়েলি সেনাদের জন্য অভিযানকে কঠিন করে তুলতে পারে; তবু হেলিকপ্টার থেকে নামা বা অন্য কৌশল এ প্রশ্ন উত্থাপন করে।

নৌযানে ৯৬ জন আর অন্যান্য নৌযান মিলিয়ে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫০০। শহিদুল বলেন, আমাদের জাহাজ তুলনামূলকভাবে বড় হওয়ায় ইসরায়েলি হামলা ভিন্ন রকম হতে পারে। বিশেষভাবে উদ্বেগের কথা হলো, যাদের ওপর অতীতে আক্রমণ হয়েছে—স্বাস্থ্যকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা—এবারও তাদের উপস্থিতি বেশি। এজন্য তাদের ওপর আক্রোশ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো ইসরায়েলের অবরোধ অবৈধ প্রমাণ করা। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে তারা যাওয়ায় ইসরায়লের বাধা দেয়ার কোনো বৈধতা বা এখতিয়ার নেই বলে শহিদুলের অবস্থান। গাজা থেকে পাওয়া বার্তায় স্থানীয়রা তাদের আগমনী আভাস নিয়েই অপেক্ষায় রয়েছে; নজিরবিহীন এ সমন্বিত যাত্রার প্রতীকী অর্থও রয়েছে। নৌবহরের সঙ্গে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীরা সেখানে চিকিৎসা সহায়তা দেবেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন।

শহিদুল জানালেন, এ অভিযানের আগে রওনা হওয়া আটটি জাহাজকে তারা গতকাল অতিক্রম করেছে; কিছু নৌযান যান্ত্রিক সমস্যা ও ফ্রিডম কোয়ালিশন জাহাজের অপ্রাপ্যতার কারণে এখনো যুক্ত হতে পারেনি। তারা অন্য নৌযান থেকে উঁচুতে বা ২০ মাইলের মতো দূরত্বে থাকতে পারে। তাদের জাহাজ ধীর গতিতে যাওয়ায় সৃষ্টি হওয়া সমস্যা নিয়েও তারা সতর্ক।

আটক হলে কী করা হবে—এ বিষয়ে নৌবহরের প্রতিটি সদস্য নিজের মত সিদ্ধান্ত নেবেন, এবং কারও ওপর তা চাপানো হবে না বলে শহিদুল বলেন। তিনি নিজে ডিপোর্টেশন বা ফেরত পাঠানোর বিকল্প গ্রহন করতে রাজি নন এবং তিনি কোনও অবৈধতার স্বীকারোক্তিও করবেন না; তাই সেভাবে এগোনোর জন্য অটল থাকবেন।

শেষে শহিদুল সব বাংলাদেশি ভাইবোনদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশিদের অসামান্য সমর্থন তারা জাহাজে থাকা সবকে জানিয়েছে। তিনি জানান, সমর্থন পাওয়ায় নৌবহরের সাহস ও দৃঢ়তা বাড়ছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন